চট্টগ্রামে ৯ মাসে ৬ হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারি ১০ হাজার, ৪০ কোটি টাকার বাণিজ্য

0

চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মেমন হাসপাতালের তিনতলায় সিজারিয়ান ইউনিট আর পঞ্চম তলায় স্বাভাবিক প্রসব ইউনিট। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে মেয়ে শায়লাকে নিয়ে আগ্রাবাদের বেপারিপাড়া থেকে হাসপাতালে আসেন সায়রা বেগম। মেয়েকে গত ৯ মাস ধরে নিয়মিত দেখিয়ে আসছিলেন মেমনেই। শেষ চেকআপে ডাক্তার নিশ্চিত করেছিলেন, বাচ্চার অবস্থান ভালো। কিন্তু শনিবার দুপুরে তার মেয়েকে ভর্তি করানোর পরপরই নার্সরা বলতে শুরু করেন, বাচ্চার অবস্থা ভালো না। পরে আরএমও ডা. শাহীন পারভীন এসেই জানিয়ে দিলেন, সিজার করতে হবে সায়রার মেয়ের। তারপর সন্ধ্যায় তিনতলার সিজারিয়ান ইউনিটে নিয়ে গিয়ে সিজার করানো হয় শায়লাকে।

শায়লার মা সায়রা আক্ষেপ করে বললেন, ‘আমার মেয়েকে আরও কিছুক্ষণ দেখতে পারতেন ডাক্তাররা। কিন্তু সামান্য অপেক্ষা না করেই সিজার করিয়ে মাথার ওপর বিলের বোঝা চাপিয়ে দিল।’

চট্টগ্রামে ৯ মাসে ৬ হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারি ১০ হাজার, ৪০ কোটি টাকার বাণিজ্য 1

‘জবরদস্তি’র সিজার

সায়রার মেয়ের একারই এই দশা নয়, চট্টগ্রাম নগরীর মেমন হাসপাতালে বাচ্চা প্রসবের জন্য কোনো হবু মা ভর্তি হলেই সিজারিয়ান অপারেশন যেন অবধারিত। একই অবস্থা দেখা গেছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালেও। একসময় এ দুটি হাসপাতালের সুনাম থাকলেও এখন হবু মায়েরা বাচ্চা প্রসবের আগ পর্যন্ত সেখানে সেবা নেন ঠিক, তবে প্রসবকালে আর সেখানে ভর্তি হন খুব কমই হবু মা। কারণ ওই ‘জবরদস্তি’র সিজার।

Yakub Group

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের নথিভুক্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া মোট ৩৭ হাজার ৬৯৩ জন হবু মায়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসব করেছেন ২১ হাজার ৯৭৪ জন। এর বিপরীতে সিজারিয়ান অপারেশনে বাচ্চা প্রসব করেছেন ৯ হাজার ৮৩৯ জন।

গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব যেখানে হয়েছে ১৯৬ জনের, সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে ২৯৫ জন নারীকে। সেপ্টেম্বর মাসে সেখানে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৬১ জনের, অথচ ওই মাসে সিজারিয়ানে বাচ্চা হয়েছে ৩০৩ জনের। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সদরঘাটের সিটি কর্পোরেশন মেমন মেটারনিটি হাসপাতালে গত নভেম্বর মাসে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৫৩ জনের, অন্যদিকে একই সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৭৬ জন নারী। সেপ্টেম্বর মাসে ওই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৮৫ জনের, বিপরীতে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১০০ জন নারী।

তবে এই তিন হাসপাতালই একা নয়, অন্য প্রায় সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও একই দশা। সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রতিযোগিতায় কে কার আগে এগিয়ে যাবে— তারই যেন প্রতিযোগিতা চলছে। স্বাভাবিক উপায়ে বাচ্চা প্রসবের জন্য আগে বেশ নামডাক ছিল লালখানবাজার মমতা ক্লিনিকের। সেই ক্লিনিকই এখন সিজারিয়ানের নামে রীতিমতো গরিব রোগীর পকেট কাটছে। একই অবস্থা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত ইমেজ, নিস্কৃতি কিংবা সূর্যের হাসি ক্লিনিকেও।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে লালখানবাজারের মমতা ক্লিনিকে। গত নভেম্বরে সেখানে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৪৫ জনের। এর বিপরীতে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে ৩৬৩ জন নারীকে। সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিক প্রসব যেখানে হয়েছে ১৪৭ জনের, সেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ৩৮১ জন নারীর। গত মে মাসে এই মমতা ক্লিনিকে ৭৩ জন নারী স্বাভাবিক প্রসব করেছেন, আর এর বিপরীতে ওই মাসে সেখানে সিজারিয়ানে বাচ্চা হয়েছে প্রায় চারগুণ বেশি—২৬৩ জন!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্দেশিকা অনুযায়ী, মা-শিশুর প্রাণরক্ষার তাগিদে কোনও হাসপাতালে মোট প্রসবের ১০ থেকে ১৫% ‘সিজার’ হতে পারে। তার বেশি হলে ধরে নিতে হবে অপ্রয়োজনে হয়েছে।

মাসে বাণিজ্য সাড়ে চার কোটি টাকার

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কম খরচের আশায় গর্ভবতী মায়েরা চট্টগ্রাম জেনারেল মা ও শিশু হাসপাতাল, মেমন হাসপাতাল, লালখানবাজারের মমতা ক্লিনিক, এনজিও পরিচালিত ক্লিনিক ইমেজ কিংবা নিস্কৃতিতে গেলেও সেখানে কম খরচ তো নয়ই, উল্টো পড়তে হচ্ছে বিশাল খরচের ফাঁদে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান অপারেশন করে বাচ্চা প্রসব করানো হচ্ছে এই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। স্বাভাবিক প্রসবে যেখানে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগে, সিজারিয়ান অপারেশনে সেখানে একলাফেই পকেট থেকে বেরিয়ে যায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এতে শুধু বেসরকারি ছয়টি হাসপাতালেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার ‘সিজারিয়ান-বাণিজ্য’ হচ্ছে— যার শিকার মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত রোগীরা।

এর বাইরে আবার অন্য আপদও আছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত রোগীর স্বজনরা সিজারিয়ান অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে বেশি দিন রাখতে বাধ্য হন। আর এতে ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণও হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া চট্টগ্রাম নগরীর ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রসূতি সেবার যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, তাতে স্বাভাবিক ও সিজারিয়ান অপারেশনে বাচ্চা প্রসবের উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল

হিসাব অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ১ হাজার ৩৪০ জন নারী প্রসবসেবা নেন। এর মধ্যে মাসজুড়ে ভর্তি হন ৫৯৯ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৯৬ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৯৫ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৪৯১ জন। এর মধ্যে জীবিত জন্ম নেয় ৪৭৯ জন শিশু। অন্যদিকে জন্মের সময়েই মারা যায় ১২ শিশু। প্রসবকালে মা মারা যান তিনজন। বাকি ১০৮ জন নারী প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা নিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে এই হাসপাতালে প্রসবসেবা নিয়েছেন ৯৬১ জন নারী। এর মধ্যে মাসজুড়ে ভর্তি হন ৭৬১ জন নারী। তাদের মধ্যে গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা ছিল ৬৭৩ জনের। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৬১ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩০৩ জন নারী। ফরসেপ ভ্যাকুয়াম ডেলিভারি হয়েছে সাতজনের। সবমিলিয়ে প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৪৭১ জন। ওই মাসে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে গর্ভপাত ঘটেছে ১৫ জন হবু মায়ের। অন্যদিকে ২০৩ জন রোগী রেফার্ড করে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালে।

গত জুলাই মাসের হিসাবে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে প্রসবসেবা নিয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী। এর মধ্যে মাসজুড়ে ভর্তি হন ৪০৫ জন নারী। তাদের মধ্যে গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা ছিল ২৬৪ জনের। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১২০ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১৭৭ জন নারী। ফরসেপ ভ্যাকুয়াম ডেলিভারি হয়েছে ছয়জনের। সবমিলিয়ে প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩০৩ জন। ওই মাসে ২০ জন হবু মায়ের মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত হয়েছে। নবজাতক মারা গেছে তিন জন। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছেন একজন মা।

গত মে মাসে এই হাসপাতালে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে মাসজুড়ে ভর্তি হন ৪২০ জন নারী। তাদের মধ্যে গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা ছিল ১৭৭ জনের। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১১৯ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২০০ জন নারী। ফরসেপ ভ্যাকুয়াম ডেলিভারি হয়েছে ছয়জনের। সবমিলিয়ে প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩২৫ জন। ওই মাসে নবজাতক মারা গেছে পাঁচজন। অন্যদিকে গর্ভপাত হয়েছে ১৩ জন হবুমায়ের।

গত এপ্রিল মাসের হিসাবে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে প্রসবসেবা নিয়েছেন ৬০০ জন হবু মা। এর মধ্যে মাসজুড়ে ভর্তি হন ৩৭১ জন নারী। তাদের মধ্যে গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা ছিল ২৭৫ জনের। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১২৪ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১৪৬ জন নারী। ফরসেপ ভ্যাকুয়াম ডেলিভারি হয়েছে ৮ জনের। সবমিলিয়ে প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ২৭৮ জন। একই মাসে গর্ভপাত হওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১২ জন।

লালখানবাজার মমতা ক্লিনিক

গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার মমতা ক্লিনিকে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯০০ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৫৬৯ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৪৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩৬৩ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৫০৮ জন। বাকি ৬১ জন রোগী অনান্য সেবা নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর মাসে মমতা ক্লিনিকে প্রসবসেবা নিয়েছেন ২ হাজার ১৩৪ জন হবু মা। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৬১৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৪৭ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩৮১ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে দুজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৫৩০ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ১৬ জন নারীর।

গত জুলাই মাসে এই ক্লিনিকে প্রসব সেবা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২৯ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৪৪৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১০৩ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৮৭ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে দুজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩৯২ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ৯ জন নারীর।

মে মাসে মমতা ক্লিনিকে প্রসবসেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন হবু মা। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৩৮৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৭৩ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৬৩ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে দুজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩৪০ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল সাতজন নারীর।

এপ্রিল মাসে মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৬৩ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৪১০ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৭৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৫৬ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে দুজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩৩৩ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ১০ জন নারীর।

সদরঘাট মেমন মেটারনিটি হাসপাতাল

গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের সদরঘাটের সিটি কর্পোরেশন মেমন মেটারনিটি হাসপাতালে ১ হাজার নারী প্রসবসেবা নেন। তবে এর মধ্যে সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২৮৪ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৫৩ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৭৬ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে চারজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ২২৯ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল পাঁচজন নারীর। বাকি ৫৫ জন নারী অনান্য সেবা গ্রহণ করেছেন।

সেপ্টেম্বর মাসে এই হাসপাতালে প্রসবসেবা নিয়েছেন ১ হাজার ১১৪ জন নারী। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৩২৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৮৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১০০ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে ১০ জনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ২৬৮ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ২১ জন নারীর।

গত জুলাই মাসে মেমন হাসপাতালে ৮৩৮ জন নারী প্রসবসেবা নেন। তবে সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২১৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৮৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৮২ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে পাঁচজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৭২ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ১১ জন নারীর।

মে মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৮২৪ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২৫৪ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১০৩ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৭৯ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৮২ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ৫১ জন নারীর।

গত এপ্রিল মাসে এই হাসপাতালে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৮০৫ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২০৫ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৮৪ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৬৯ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে চারজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৫৭ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ২২ জন নারীর।

নিস্কৃতি ক্লিনিক

চট্টগ্রাম নগরীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত নিস্কৃতি ক্লিনিকে গত নভেম্বর মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৬০৭ জন। তবে সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৫৯ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৩৭ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২২ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৫৯ জন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৬৬৮ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৬১ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৪১ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২০ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৬১ জন।

জুলাই মাসে এই ক্লিনিকে প্রসবসেবা রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৫০ জন। তবে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৫৬ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৩৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২১ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৫৬ জন।

মে মাসে নিস্কৃতিতে প্রসবসেবা নিয়েছেন ৬০২ জন হবু মা। তবে প্রসবকালে ভর্তি হন মাত্র ৩৮ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৮ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনেও সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২০ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৩৮ জন।

এপ্রিল মাসে এখানে প্রসবসেবা নেন ৭০৭ জন হবু মা। তবে প্রসবকালে ভর্তি হন মাত্র ৬২ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৩১ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনেও সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩১ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৬২ জন।

সূর্যের হাসি ক্লিনিক

চট্টগ্রাম নগরীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত সূর্যের হাসি ক্লিনিকে মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৫৭৩ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৯৭ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৬৬ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৮ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৯৪ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল দুজন নারীর।

সেপ্টেম্বর মাসে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৭১৪ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন ১০৯ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৭১ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩২ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১০৩ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল দুজন নারীর।

জুলাই মাসে এই ক্লিনিকে প্রসবসেবা পাওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২৫ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৭৮ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৪০ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩৫ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে তিনজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৭০ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ১১ জন নারীর।

মে মাসে প্রসবসেবা নিয়েছেন ৭৭৯ জন হবু মা। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৭২ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৫২ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১৮ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৭০ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল তিনজন নারীর।

এপ্রিল মাসে এই ক্লিনিকে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ৭৭৯ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ৭৯ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৪৫ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২৮ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ৭৩ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ৮ জন নারীর।

ইমেজ জালালাবাদ ক্লিনিক

নগরীর ইমেজ জালালাবাদ ক্লিনিক গত নভেম্বর মাসে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১১ জন। তবে সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২০৮ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৪৬ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৪১ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে তিনজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৯০ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল একজন নারীর।

সেপ্টেম্বর মাসে প্রসবসেবা নিয়েছেন ২ হাজার ২১৫১ জন হবু মা। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ২১৭ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৭২ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩৬ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে পাঁচজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ২১৩ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ৯ জন নারীর।

জুলাই মাসে ইমেজ ক্লিনিকে ১ হাজার ২৯২ জন হবু মা প্রসবসেবা নিয়েছেন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ১৮১ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৩৬ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৪৩ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে তিনজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৮২ জন।

মে মাসে এখানে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪৬ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ১৫৮ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১১৪ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩১ জন নারী। ভ্যাজাইনাল ফেস ডেলিভারি বা যোনিমুখ প্রসব হয়েছে তিনজনের। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৪৮ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ২৫ জন নারীর।

এপ্রিল মাসে এই ক্লিনিকে প্রসবসেবা পাওয়া হবু মায়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪৭ জন। সারা মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন মাত্র ১৮১ জন নারী। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১২৬ জনের। অন্যদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৪০ জন নারী। প্রসব করা মোট বাচ্চার সংখ্যা ১৬৬ জন। গর্ভকালীন জটিলতা ছিল ২৮ জন নারীর।

আত্মপক্ষ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মেমন হাসপাতালের আরএমও ও ইনচার্জ ডা. শাহীন পারভীন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘মেমনে স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে বেশি সিজারিয়ান অপারেশনে বাচ্চা প্রসব হয়— এ ধারণা ভুল। আমরা রোগীকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করি নরমাল ডেলিভারির জন্য। আমাদের এখানে বেশি রেফারেল রোগী বেশি আসে। সেগুলোর সিজারিয়ান ছাড়া উপায় থাকে না।’

কিন্তু তার এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি ওপরের প্রতিবেদনে। জানা গেছে, গর্ভধারণের পর থেকেই এখানে নিয়মিত চেকআপে থাকেন হবু মায়েরা। তাই গর্ভকালে যেসব হবু মা এখানে সেবা নেন, তারাই আসেন বাচ্চা প্রসবের সময়।

কেন এতো সিজার— যেভাবে দেখছেন ডাক্তার

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাহানারা চৌধুরী তার সরকারি চাকরিকালীন ও ব্যক্তিগত প্রাকটিসের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আসলে একটা সিজারিয়ানের পিছনে অনেক ইন্ডিকেশন কাজ করে। আমি একজন মায়ের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করি। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ইনডিকেশন না থাকে, আমি চেষ্টা চালিয়ে যাই। আমার চিকিৎসাজীবনে আমার হাতে স্বাভাবিক প্রসবেই বাচ্চা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের এই নামি গাইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘কিন্তু এখন একটু ভিন্ন চিত্র দেখি। সেটা হলো ডাক্তাররা একসাথে অনেকগুলো কাজ করে। সব জায়গায় সব ফ্যাসিলিটি থাকে না। প্রথম যখন কোনো মেয়ে মা হয়, তার ফলোআপ সুনির্দিষ্ট থাকে— যা প্রসবকালে বেড়ে যায়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন গাইনি কনসালট্যান্টকে অনেকগুলো কাজ করতে হয় একসাথে। তাই রোগীকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ফেলে রাখা সম্ভব হয় না। এ কারণে সেই রোগীর ফলোআপ কে করবে? তখন বাধ্য হয়ে ডাক্তাররা সিজারের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। আর অর্থলিপ্সার ব্যাপারটা তো থাকেই। কিন্তু আমি সবসময়ই এর ঘোর বিরোধিতা করেছি।’

ডা. সাহানারা চৌধুরী আরও বলেন, ‘সিজারিয়ানের জন্য রোগীর ইন্ডিকেশনও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী হয়। আজকাল গর্ভকালীন ঝুঁকিতে থাকছে প্রেসার ও ডায়াবেটিকস। কারণ এখন মেয়েরা বিয়ের আগেই মোটাসোটা থাকে। বিয়ের পর সেটি আরো বেড়ে গেলে স্বভাবতই তার প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দেয়। তখন বাচ্চা প্রসবে সিজারিয়ানের প্রয়োজন পড়ে।’

তথ্য পাঠায় না হাসপাতালগুলো

এদিকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান প্রসবের তুলনামূলক চিত্র জানতে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান অপারেশনের তথ্য প্রতিমাসে দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু এ নির্দেশ মানেন না নগরীর অভিজাত ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে আসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর মেমন, মা ও শিশু হাসপাতাল, মমতা, ইমেজ, নিস্কৃতিসহ চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও হাটহাজারীর কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ছাড়াও পটিয়ার পাঁচুরিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিমাসে প্রতিবেদন পাঠায়।

কমাতে হলে দরকার মনিটরিং

সিজারিয়ানের সংখ্যা কমানোর জন্য মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশনগুলো মনিটরিংও করতে হবে। কেন সেটি করল, অন্য উপায় নিয়েছে কিনা— এসব দেখতে হবে।’

প্রতি মাসে কোন্ ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল কতোগুলো সিজারিয়ান করল— সেই তথ্য তারা নিয়মিত জানাচ্ছে না কেন সেটি খোঁজ নেবেন বলে জানিয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন তথ্যদানে অনীহা প্রকাশ করা ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবেন বলেও জানান।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm