s alam cement
আক্রান্ত
১০২৩১৪
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২৮

স্বামী—স্ত্রীর তালাক, তবুও ভালোবাসা যেখানে হার মানে…

1

সাঈদা আক্তার প্রিয়া ও নাহিদুল হাসান ৩ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তবে কিছুদিন না যেতেই তাদের মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য। স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রিয়াকে তালাক দেন নাহিদ। আলাদা থাকতে শুরু করেন দুজন। কিন্তু পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে নাহিদ ও প্রিয়া পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর মধ্যে দুজনের সংসারে আসে নতুন সদস্য, রাফসান। বয়স তার ২ মাস।

কিন্তু পুরোনো মান-অভিমান-ঝগড়া আবারও অশান্ত করে তুলে তাদের সংসার। সন্তানকে নিয়ে প্রিয়া চলে যান বাপের বাড়ি। এর মধ্যে নাহিদের বাবা আবদুল মালেক (৮০) ভোলা থেকে চট্টগ্রাম আসেন নাতিকে দেখতে। রাফসানের জন্মের আগেই তার দাদী মারা যান। তাই নাতিকে দেখতে মরিয়া ছিলেন দাদা। কিন্তু বাধ সাধে পুত্রবধূ প্রিয়া। তিনি জানান, নাহিদকে ডিভোর্স দেবেন তিনি। তাই তার সন্তানকে দেখতে পারবেন না শ্বশুরবাড়ির কেউই।

নাহিদের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় যৌতুকের অভিযোগ করেন প্রিয়া। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় আয়োজিত বৈঠকে সংসার না করার সিদ্ধান্ত জানান প্রিয়া। হালিশহর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাঈনুল হাবিব বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়ে উভয়পক্ষ নিয়ে বৈঠকে বসেন। কিন্তু প্রিয়া আদালত কর্তৃক ডির্ভোস দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

বারবার অনুরোধ করেও রাজি করানো যায় না প্রিয়াকে। এদিকে দাদা চট্টগ্রাম এসে নাতিকে একনজর দেখার জন্য কাঁদছেন। মানবিক বিবেচনায় বাসায় গিয়ে সন্তানকে দাদাকে দেখানোর অনুরোধ করেন এসআই মাইনুল হাবিব। কিন্তু রাজি হননি প্রিয়া। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করার কথা জানান তিনি।

এদিকে বিষয়টি চট্টগ্রাম প্রতিদিনের নজরে আসলে স্থানীয় কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনকে অনুরোধ জানানো হয় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য। যাতে বৃদ্ধ দাদা তার নাতিকে একনজর দেখতে পারেন, কোলে নিয়ে আদর করতে পারেন।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রিয়ার বাবা ও বাড়ির জমিদারের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেন দাদার কাছে নাতিকে আনার। কাউন্সিলরের অভয় ও নিশ্চয়তা পেয়ে রোববার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় দাদা আবদুল মালেক ও বাবা নাহিদ হাজির হন প্রিয়াদের বাড়ি।

সেখানে তখন সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। নাতিকে কোলে নিয়ে চুমু খেতে থাকেন দাদা। একবার বাবার কোলে একবার দাদার কোলে ওঠে রাফসান। নাতিকে বুকে জড়িয়ে দাদা কাঁদলেন। কাঁদলেন সামনে থাকা অন্যরাও।

কেএস

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. কমল চক্রবর্তী বলেছেন

    চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে অনেক অনেক ধন্যবাদ একটি পরিবারকে এক করে দেওয়ার জন্য ও হাসি ফূটানোর জন্য। আজকাল এসব বিষয় সবাই এড়িয়ে যায়। কিন্তু আপনাদের সচেতন ও মানবিক প্রয়াস একটি পরিবারকে এক করতে পেরেছে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই এর সাথে সংশ্লিস্ট সকলকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm