বাঁশখালীতে সাবেক মেম্বারকে পেটালেন চেয়ারম্যান!

0

বাঁশখালী সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকার বিরুদ্ধে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ জুলাই ঘটনাটি ঘটলেও বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দিতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার সাবেক ইউপি সদস্য বৃহস্পতি চৌধুরী। অভিযোগে তিনটি বেত নিয়ে চেয়ারম্যান ২৫টি বেত্রাঘাত করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মারধরের শিকার সাবেক ইউপি সদস্য বৃহস্পতি চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে ১৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় চৌকিদার মুবিন একটি নোটিশ দেয়। নোটিশে একই দিন ১০টায় হাজির হওয়ার কথা বলা হয়। তখন আমি ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের নকল কপি ও শুনানির জন্য একদিনের সময় আবেদন করি। এসময় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান সাহেব তার চেয়ারের পাশে থাকা তিনটি বেত নিয়ে আমাকে বুকে, পিঠে, হাতে, রানে কোমড় ও তলপেটে আনুমানিক ২৫টি বেত্রাঘাত করেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার চেয়ে বাঁশখালী থানা ও বাঁশখালী আদালতে গেলেও চেয়ারম্যানের তদবিরের কাছে আমি হার মানি। এরপর চেয়ারম্যান কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাসহ বাঁশখালী আদালত প্রাঙ্গনে সমঝোতা বৈঠক করেন। বৈঠকে আমাকে চাপ সৃষ্টি করলে আমি তা মানি নাই। চেয়ারম্যান এখন প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। যে কারণে নিরাপত্তাহীনতায় জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।’

সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নোবেল ভট্টাচার্য্য জানান, ‘আমি সেদিন ভোটার হালানাগাদ কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছি চেয়ারম্যান মহোদয় উনাকে বকাঝকা করেছেন। রাস্তায় মদ খেয়ে ঘোরাফেরা করায় মানুষের অসুবিধা হয়। কয়েকজন এমন অভিযোগ দেওয়ায় তাকে বকাঝকা করেছে। মারধর করে নাই। তার কাছ থেকে একটি স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা বলেন, ‘বৃহস্পতি চৌধুরী মূলত মাদকাসক্ত। তার বড় ভাই মারা যাওয়ার চতুর্থ দিনে ভাবীকে মারধর করেছে। সেই বিচার করেছি আমরা স্থানীয়ভাবে। তাকে মারার অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় শালিসি বৈঠকে তাকে মৌখিকভাবে শাসানো হয়েছে। সে ওই বৈঠকেও মদ্যপ অবস্থায় এসেছিল।’

বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতি চৌধুরী বাঁশখালী আদালতে গেলে আইনজীবীর চেম্বারেই সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান খোকা।

এডি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন