ভিডিও/ সাগর ছুঁয়ে বালির গায়ে বসলো নাচের উৎসব

কক্সবাজারে ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল

0

চারদিকে ভোরের আলো ফুটতেই সাগর ছুঁয়ে বালির গায়ে নামলো একঝাঁক তারার মেলা। সাগরের হাওয়ার তোড়ে উড়ছিল চারদিকে লাগানো আলো ঝলমলে রঙিন পতাকাগুলো। বালির ওপর তৈরি হওয়া মঞ্চে, মণিপুরি শিল্পীদের পুংয়ের তালে যেন আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মারমেইড ইকো রিসোর্ট। বিশ্বের ১৫টি দেশের ২০০ নৃত্য-শিল্পীদের নিয়ে সমুদ্রপাড়ে ডানা মেলেছে আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব ‘ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল’। ঢাক-ঢোল আর পুংয়ের বাধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এ বছরের বিষয়বস্তু দূরত্বের সেতুবন্ধন মজবুত করে ৪দিনব্যাপী চলবে এই আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের অবকাশ যাপন কেন্দ্র মারমেইড ইকো রিসোর্টে শুরু হওয়া ৪দিনের আন্তর্জাতিক দ্বি বার্ষিক-বার্ষিক নৃত্য উৎসব ‘ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল ২০১৯’ এর প্রথমদিনে মেতেছে নৃত্য শিল্পীরা। ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স, এশিয়া প্যাসিফিকের (ডব্লিউডিএ,এপি) বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগ প্রথমবারের মতো দেশে আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক এই নৃত্য উৎসব।

এ বছর ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের বিষয়বস্তু হলো ‘দূরত্বের সেতুবন্ধন’। এতে নৃত্য কলার মধ্য দিয়ে সমাজের ভেতরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দূরত্বে সেতু স্থাপনের ধারণা তুলে ধরা হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডব্লিউডিএ, এপির সভাপতি ঊর্মিমালা সরকার বলেন, আমাদের অনেক দিনের শ্রম ও সাধনার ফসল এই উৎসব। বাংলাদেশে বার্ষিক সভা করার পাশাপাশি এ উৎসবের আয়োজন করতে পারাটা আমাদের জন্য একাধারে আনন্দের এবং গর্বের। দূরদূরান্ত থেকে এসে আমাদের এই উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডব্লিউডিএ, এপির সহসভাপতি লুবনা মারিয়াম, সাবেক সভাপতি তাইওয়ানের ইউনি ওয়াং এবং ডব্লিউডিএ ও এপির বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগের সভাপতি আনিসুল ইসলাম হিরু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের নির্বাহী কমিটির সদস্য লায়লা হাসান, বেলায়েত হোসেন খান, সোমা মমতাজ, মুনমুন আহমেদ, তাবাসসুম আহমেদ ও তামান্না রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুং বাজায় সিলেট থেকে আসা মণিপুরি দল, ঢোল বাজায় বাংলার ঢোল এবং নৃত্য পরিবেশন করে নাঈম খান ড্যান্স কোম্পানি।

এক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদা সুলতানা তানজী ও লতিফা ইয়াসমিন। সমসাময়িক নৃত্যের কর্মশালা পরিচালনা করেন জার্মান থেকে আসা নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক টমাস বুঙ্গার। ৪ দিনব্যাপী এ উৎসবে এশিয়াসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ থেকে যোগ দিয়েছেন দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক ও কোরিওগ্রাফার।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিকেলে অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, তৃতীয় দিন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস এবং চতুর্থ ও শেষ দিন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। ডব্লিউডিএ, এপি-এর বার্ষিক সাধারণ সভা এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এ উপলক্ষে প্রতিদিনই রয়েছে কর্মশালা, সেমিনার ও প্রবন্ধ পাঠ। বিকেলে কক্সবাজারের লাবণী বিচ সড়কে কক্স কার্নিভ্যাল মিলনায়তনে থাকবে নৃত্য পরিবেশনা। দুই ভাগে এ পরিবেশনায় অংশ নেবেন আন্তর্জাতিকভাবে উৎসবের জন্য নির্বাচিত শিল্পী ও তাঁদের প্রযোজনা এবং জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শিল্পীদের প্রযোজনাগুলো। ওই সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশনা যা থাকছে
তাইওয়ানের নৃত্য প্রযোজনা ‘বাটু উইথ অর্নামেন্ট’, ‘নট অ্যালোন’, ‘ইমপ্রেশনস অব আওয়ার হোম টাউন’, ‘গ্রেটার দ্যান টু লেস দ্যান’। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ত্রিকোন কানেকটিভিটি’। ভারতের ‘এজেস’, ‘ইনট্রানসিট’, ‘আনশেয়ারড ডিজায়ারড’, ‘টাচ দ্য সাউন্ড’। কোরিয়ার ‘স্প্রিং কামিং উইথ আ ওয়ার্ম ব্রিজ’। চীনের ‘টয়লেট পাম্প’।

দেশের শিল্পীদের পরিবেশনা যা থাকছে
অমিত চৌধুরী ও সুইটি দাসের ‘রূপান্তর’। জুয়েইরিয়াহ মৌলির ‘অর্ধনারীশ্বর’। শাম্মি আখতারের ‘মাইন’। আনন্দিতা খানের ‘রিফিউজি’। মৌমিতা জয়ার ‘রিলিজিয়ন: আ কজ অব কনফ্লিক্ট ইন কালচার’। আবু নাঈম খানের ‘লালন’। আরিফুল ইসলাম অর্ণবের ‘মানুষ’। তাহনুন আহমেদীর ‘আজান’। মেহরাজ হক তুষারের ‘ট্রাস্ট’। অলকা দাস প্রান্তি ‘কত্থক টু ওড়িশি’। বৃষ্টি ব্যাপারি ‘ফ্রেম অব মাইন্ড’।

যৌথ পরিবেশন যা থাকছে
লিথুনিয়া ও ভারতের ‘হ্যাভ উই মেট বিফোর?’। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ‘তফাত’। ভারত ও বাংলাদেশের ‘কি তা রে বা’ ও ‘আই অ্যান্ড মাইসেলফ’। কানাডার সাশার জারিফের সঙ্গে কোরিওল্যাব থেকে নির্মিত হংকং, ভারত ও বাংলাদেশের একটি বিশেষ প্রযোজনা।

নৃত্যনাট্য
কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নৃত্যনাট্য বাঁদী–বান্দার রূপকথা। সুকল্যাণ ভট্টাচার্যের নৃত্য পরিচালনায় শামীম আরা নীপা, শিবলী মহম্মদসহ এতে নাচ করবেন প্রায় ৮০ জন শিল্পী।

বাংলাদেশের পরিবেশনা যা থাকছে
উৎসবে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধনা, নৃত্যাঞ্চল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, কল্পতরু, ভাবনা, ধৃতি নর্তনালয়, নৃত্যশৈলী, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি। উলে­খযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে লায়লা হাসান, মুনমুন আহমেদ, তামান্না রহমান, রাজদ্বীপ ব্যানার্জি, সাজু আহমেদ, সামিনা হোসেন প্রেমা, ওয়ার্দা রিহাব প্রমুখ শিল্পী ও তাঁদের দলের পরিবেশনা। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার শিল্পী ও আদিবাসী শিল্পীরাও নাচ করবেন এই উৎসবে।

এসআর/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন