আক্রান্ত
১১৪৯০
সুস্থ
১৩৫৫
মৃত্যু
২১৬

মিনারেলের নামে সস্তার পানি, বেআইনি কারবারে ৫২ প্রতিষ্ঠান (ঠিকানাসহ)

0
high flow nasal cannula – mobile

চট্টগ্রাম নগর ও উপজেলায় ৮০টি মিনারেল ওয়াটার উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও এর বেশিরভাগই মানহীন পানি উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা পানি পান করে একদিকে মানুষের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। ৮০টি মিনারেল ওয়াটার প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই ৫২টিকে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর ও বিভিন্ন উপজেলায় ৮০টি মিনারেল ওয়াটার তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স (গুণগত সনদ) আছে। বাকি ৫২টি প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্স নেই। কিন্তু এরপরেও এসব প্রতিষ্ঠান পানি উৎপাদন ও বিক্রি করে যাচ্ছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই জারে ভরে পানি সরবরাহ করে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে— তারা পাম্প অথবা ওয়াসার লাইন থেকে সরাসরি পানি সংগ্রহ করে তা মিনারেল ওয়াটার নামে বিক্রি করছে।

এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে লোকজনকে সতর্ক করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় বিএসটিআই। এর আগে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। বিএসটিআইর কর্মকর্তারা জানান, নিয়মানুযায়ী সুপেয় পানি উৎপাদন কারখানায় একজন রসায়নবিদ ও পরীক্ষাগার থাকা বাধ্যতামূলক। পানি জারে ভরার সময় ফিলিং মেশিন (পানি ভরার পর বোতলের মুখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার প্রযুক্তি) ব্যবহার করতে হবে এবং এ মেশিনে অতিবেগুনি রশ্মি (জীবাণু ধ্বংসকারী) থাকতে হবে। কিন্তু অবৈধ কারখানাগুলোতে এসবের কিছু নেই। তা ছাড়া ওই সব পানির জার সংরক্ষণ করতে বিএসটিআইয়ের নির্দেশনাও অনুসরণ করা হয় না। লাইসেন্স না থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের ভুয়া সিল জারে ব্যবহার করছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, এসব অবৈধ কারখানাগুলোর অধিকাংশই পাম্প থেকে অথবা ওয়াসার লাইন থেকে সরাসরি পানি সংগ্রহ করে জারপ্রতি ৪০-৫০ টাকায় ‘মিনারেল ওয়াটার’ নামে বিক্রি করছে। নগরের অনেক রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানেও এসব জারভর্তি ‘বিশুদ্ধ’ পানি বিক্রি হচ্ছে গ্লাসপ্রতি এক টাকা দামে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কিছুটা নমনীয়। ফলে বন্ধ করে দেওয়ার কিছুদিনের মাথায় পুনরায় পানি বিক্রি করা শুরু করে এসব প্রতিষ্ঠান। এ জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের দাবি জানান ক্রেতারা।

চট্টগ্রামের যতো পানি জালিয়াত
বিএসটিআইয়ের হিসাবে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় মিনারেল ওয়াটারের নামে ওয়াসার পানি বিক্রি করে যেসব প্রতিষ্ঠান—

আগ্রাবাদ-ডবলমুরিং

  • এনআর ড্রিংকিং ওয়াটার, ৩১২/ডি, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, বেপারী পাড়া, চট্টগ্রাম।
  • রিলাই ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ৪৯০ পাঠানটুলী, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
  • এফআর ফুডস এন্ড বেভারেজ ইন্ড্রাস্ট্রিজ, মৌলভী পাড়া, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
  • অজিকা ফুড এন্ড বেভারেজ, ৫৭ হালিশহর রোড, হাজী পাড়া, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
  • একুরা ফ্রেশ মিনারেল ওয়াটার, সিডিএ আবাসিক এলাকা, রোড নং-২২, আগ্রাবাদ, ডবলমুরিং।
  • একুরা ফ্রেশ মিনারেল ওয়াটার, সিডিএ আবাসিক এলাকা, রোড নম্বর ২২, ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম।

হালিশহর-পতেঙ্গা

  • জান্নাত ইন্টারন্যাশনাল, উত্তর হালিশহর, বড়পোল, নতুনপাড়া, চট্টগ্রাম।
  • স্মার্ট ড্রিংকিং ওয়াটার, ৫৭ হালিশহর রোড, হাপ্পীপাড়া, চট্টগ্রাম।
  • এ জেড এন্টারপ্রাইজ, ওয়ার্ড ২৬, বড়পোল, মইন্নাপাড়া, উত্তর হালিশহর, চট্টগ্রাম।
  • আবদুল্লাহ ফুড এন্ড বেভারেজ, ছদু চৌধুরী রোড, উত্তর হালিশহর, চট্টগ্রাম।
  • অহি ইন্টারন্যাশনাল, উত্তর হালিশহর, বড়পোল, নতুনপাড়া, চট্টগ্রাম।
  • সাজ এন্টারপ্রাইজ, বড়পোল, মইন্নাপাড়া, উত্তর হালিশহর, চট্টগ্রাম।
  • এএমএস ইন্টারন্যাশনাল, বড়পোল, নতুনপাড়া উত্তর হালিশহর চট্টগ্রাম।
  • জে বি এন্টারপ্রাইজ, পুরাতন পোস্ট অফিস, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।
  • রহমান এন্টারপ্রাইজ, দক্ষিণ হালিশহর, চট্টগ্রাম।
  • আরএস কর্পোরেশন, ব্যারিস্টার কলেজ রোড, দক্ষিণ হালিশহর, ইপিজেড, চট্টগ্রাম।
  • আল মদিনা সুপার ড্রিংকিং ওয়াটার, ২নং মাইলের মাথা, দক্ষিণ হালিশহর, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
  • তানহা এন্টারপ্রাইজ, কাটগড়, উত্তর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

জামালখান

  • এমএম সায়েন্টিফিক, ৬৩ হেমসেন লেইন, আসকারদীঘির পশ্চিম পাড়, জামালখান, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম।

বাকলিয়া

  • ইকো ড্রিংকিং ওয়াটার, নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম।
  • আন্তরিক বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, নয়া মসজিদ, চাক্তাই, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম।

বন্দর

  • রেজিয়া ড্রিংকিং ওয়াটার এন্ড বেভারেজ, নিমতলা, পিসি রোড, বন্দর, চট্টগ্রাম।
  • ক্লিয়ার ড্রিংকিং এন্ড বেভারেজ, সিইপিজেড, কলসী দীঘির পাড়, বন্দর, চট্টগ্রাম।
  • আল মদিনা সুপার ড্রিংকিং ওয়াটার, ২নং মাইলের মাথা, হাজী শামসুল আলম লেইন, বন্দর, চট্টগ্রাম।

পাঁচলাইশ-নাসিরাবাদ

  • কে জিএন কর্পোরেশন, ভান্ডারী লেইন, বিবিরহাট, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।
  • স্টাইল ড্রিংকিং ওয়াটার, দারুস সালাম ভিলা, সি-১৮, রোড-২, হিলভিউ আবাসিক এলাকা, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম।
  • ম্যাটস ড্রিংকিং ওয়াটার, আল ফালাহ গলি, ২নং গেইট, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম।
  • মেসার্স সলিউশন ২৪, ১১৭৬/১৫২২ মসজিদ গলি, পূর্ব নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।

ফিরিঙ্গীবাজার-সদরঘাট

  • এসএম চৌধুরী ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড, ১২, এয়াকুব নগর, ফিরিঙ্গীবাজার, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম।
  • আলিফ এন্টারপ্রাইজ, ১০৪, মাঝিরঘাট রোড, সদরঘাট, চট্টগ্রাম।
  • এইচ কে ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডা:, পুরাতন কাস্টমস, সদরঘাট, চট্টগ্রাম।

চান্দগাঁও

  • আল রিয়াদ ফুড এন্ড বেভারেজ, টেকবাজারপুল, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।
  • খাজা ফুড এন্ড বেভারেজ, খাজা রোড, বলিরহাট, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।
  • নূর ড্রিংকিং ওয়াটার, রাজাখান রোড, মোহরা ৫নং ওয়ার্ড, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।
  • রাভিনো লিমিটেড, বিসিক শি/এ, কালুরঘাট, চট্টগ্রাম।

আকবর শাহ

  • আসিফ ফুড এন্ড বেভারেজ, ব্লক-বি, রোড নং-৯, বিশ্ব কলোনী, আকবর শাহ, চট্টগ্রাম।
  • এসডি ড্রিংকিং ওয়াটার, প্লট নং-২৮, পরা আ/এ, সিটি গেইট, আকবরশাহ, চট্টগ্রাম।
  • এসডি ড্রিংকিং ওয়াটার, প্লট ২৮, পদ্মা আবাসিক এলাকা, আকবর শাহ, চট্টগ্রাম।

পাহাড়তলী-খুলশী

  • ডিসকভারি ফুডস এন্ড বেভারেজ, মুজাফফর নগর, পলিটেকনিক্যাল, খুলশী, চট্টগ্রাম
  • ম্যানিভা পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার, উত্তর পাহাড়তলী, প্লট-৬, খুলশী, চট্টগ্রাম।
  • হুদাইফা ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ৮২৬, আব্দুল আলী নগর, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
  • টেকনো বিডি, সাগরিকা, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

হাটহাজারী-অক্সিজেন

  • অক্সিজেন ড্রিংকিং ওয়াটার, অনন্যা, অক্সিজেন, চট্টগ্রাম
  • শাহী ওয়াটার টেকনোলজি, ১৫নং বুড়িশ্চর ইউনিয়ন পরিষদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
  • আলফা ড্রিংকস এন্ড বেভারেজ ইন্ডা; হাটহাজারী রোড, মদুনাঘাট, চট্টগ্রাম।
  • ডি আলম এন্ড ব্রাদার্স, ইসলামিয়া হাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
  • জেএসএন ফুড এন্ড বেভারেজ ওয়াটার, ২৯৫/২, হাটহাজারী সড়ক, বালুছড়া, চট্টগ্রাম।
  • প্যাসিফাই ফুড এন্ড বেভারেজ, ১০ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

সীতাকুণ্ড

  • আরিবাহ ড্রিংকস এন্ড বেভারেজ লি. মীর আলীয়া রোড, সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
  • চট্টলা ড্রিংকিং ওয়াটার, উপজেলা হাসপাতাল রোড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
  • চট্টলা ড্রিকিং ওয়াটার, উপজেলা হাসপাতাল রোড, সীতাকুণ্ড।

আনোয়ারা

  • এস কে এন্টারপ্রাইজ, দক্ষিণ বন্দর, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।

ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে আমরা নানা সময়ে নানা জায়গায় কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান আগ্রহী নয়। এ ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কথা অনেকে বলেন। ফলে মানুষ বছরের পর বছর ধরে অনিরাপদ পানি পান করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, ‘প্রায় সময় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো দিনে পানি উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে উৎপাদনে যাচ্ছে। তাই আদালত থেকে এ বিষয়ে যদি কঠোর নির্দেশনা পাওয়া যায় তাহলে জোরদারভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, ‘হেলথ সেফটি, এনস্কাইরনমেন্টাল সেফটি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে এ যাবৎ ড্রিংকিং ওয়াটার/নাচারেল মিনারেল ওয়াটার পণ্যসহ সর্বমোট ১৮১টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং গণগত মানসম্পন্ন ওইসব পণ্যের মোড়কে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু অসাধু উৎপাদনকারী/ব্যবসায়ী বিএসটিআই’র সিএম লাইসেন্সবিহীন ড্রিংকিং ওয়াটার/ন্যাচারেল মিনারেল ওয়াটার পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপতৎপরতার লিপ্ত আছেন। এ সকল অপতৎপরতা রোধকল্পে বিএসটিআই কর্তৃক প্রায় প্রতিদিনই সার্ভিল্যান্স টিম পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই’র সিএম লাইসেন্স গ্রহণ/নবায়ন না করে অবৈধভাবে বিএসটিআই’র বাধ্যতামূলক পণ্য বিক্রি বিতরণ করছে যা দণ্ডনীয় অপরাধ।’

এডি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm