বাংলাদেশের ‘হোম’ ভেন্যু কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন

0

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা নাড়ির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ২০০৫ সাল থেকে। রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়াকে সেইদিন আশরাফুল-আফতাব আহমেদরা ডুবিয়েছিল চরম লজ্জায়। প্রথমবারেরমত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে সেদিন বাংলাদেশ জিতেছিল ৫ উইকেটের ব্যবধানে।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটাই বাংলাদেশকে উপহার দেয়নি। এখানে খেলতে এসে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিজ দেশের মাটিতে খেলার স্বাদ পান। সে কারণেই দেখা গেলো, ২০১৭ সালে এই মাঠেই দ্বিতীয়বারের মত খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল টাইগাররা।

কিউইদের বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে ছিল আরও বেশি থ্রিলার। নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেয়া ২৬৬ রানের জবাব দিতে নেমে ১২ রানে ৩ উইকেট এবং ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর যখন পরাজয়ের শঙ্কায় ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখনই ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দু’জনের ব্যাটে অতিমানকিব দুটি ইনিংস উপহার পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২২৪ রানের অসাধারণ এক জুটি। মাকিব-মাহমদউল্লাহ দু’জনই সেঞ্চুরি করলেন। সাকিব ১১৪ এবং মাহমুদউল্লাহ ১০২ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে এনি দিলেন ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় এক জয়।

সেই সোফিয়া গার্ডেনে এবারের বিশ্বকাপেও খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে এবার প্রতিপক্ষ আর কেউ নয়, স্বাগতিক ইংল্যান্ড। পূর্বের সেই সাফল্যের ধারা এবার বয়ে নিতে পারবে কি না মাশরাফি বিন মর্তুজারা, সেটাই দেখার বিষয়।

ওয়েলসের কার্ডিফ শহরে টাফ নদীর পাড়ে অবস্থিত নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামটি। কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লেমারগানের হোম ভেন্যু হিসেবে পরিচিত এই স্টেডিয়ামটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচও আয়োজন করে থাকে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন।

১৮৫৪ সালে স্টেডিয়ামটির প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ক্রিকেট শুরু হয়েছে এই মাঠে ১৯৬৭ সাল থেকে। স্টেডিয়ামটি ক্রিকেটের জন্য ছিল না। কার্ডিফ অ্যাথলেটিক ক্লাবের কাছে এই মাঠের লিজ ছিল ১২৫ বছর। ১৯৯৫ সালে অ্যাথলেটিক ক্লাবের কাছ থেকে কেনার পর ক্রিকেটের জন্যও এই মাঠে আলাদা সেকশন চালু করা হয়। ক্রিকেটের পাশাপাশি এই মাঠে ফুটবল খেলাও অনুষ্ঠিত হতো।

তবে ২০০৭ সালে গ্লেমারগনের ক্রিকেটার মাইক পাওয়েল পাঁজরের ইনজুরিতে পড়ার পর আবেদন করেন, মাঠটাকে শুধু ক্রিকেটের জন্য ব্যবহার করার জন্য। তার সেই আবেদনই গ্রহণ করে নেয়া হয়।

বিশ্বকাপে ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কার্ডিফের। ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠেই। এবার এই মাঠে ইংল্যান্ড কি করবে সেটাই দেখার বিষয়।

ব্যাটিং পারফরম্যান্স:-
দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর: ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রান করেছিল ইংল্যান্ড।
সর্বনিম্ন স্কোর: ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান: ইংল্যান্ডের জস বাটলার ৩০৭ রান করে সবার ওপরে রয়েছেন।
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ: অস্ট্রেলিয়ার শন মার্শ ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
সেঞ্চুরি: ৮টি।

বোলিং পারফরম্যান্স:-
সর্বোচ্চ উইকেট: ইংল্যান্ডের পেসার লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ ১১টি উইকেট নিয়েছেন।
এক ম্যাচে সেরা বোলিং: ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা ২৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

উইকেটকিপিং পারফরম্যান্স:-
সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: ইংল্যান্ডের জস বাটলার এই স্টেডিয়ামে ১১টি ডিসমিসাল করেছেন।
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: ২০০১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের গ্যারেথ হোপকিনস, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ক্রেইগ কিসোয়েটার, ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ ৩টি করে ডিসমিসাল করেছেন।

ফিল্ডিং পারফরম্যান্স:-
সর্বোচ্চ ক্যাচ: ভারতের সুরেশ রায়না সর্বোচ্চ ৫টি ক্যাচ নিযেছেন।
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচ: ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের নাথান ম্যাককালাম ৪টি ক্যাচ নিয়েছেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন