পাথরঘাটার বিস্ফোরণে ৬ নিহতের লাশ বুঝে নিলেন স্বজনরা, অজ্ঞাত এক

0

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের বড়ুয়া ভবনে গ্যাসলাইন দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের লাশ বুঝে নিয়েছে তাদের স্বজনরা। অজ্ঞাত হিসেবে একজনের লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।

নিহতদের একজন পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়া। তিনি শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়ার স্ত্রী। দুর্ঘটনার সময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। অ্যানি বড়ুয়ার দুই সন্তান বড়জন সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, অপর জন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। নিহত অ্যানি বড়ুয়ার পিতার বাড়ি কক্সবাজার রামু, স্বামীর বাড়ি পটিয়া।

ফারজানা আক্তার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তার ছেলে আতিকুল ইসলাম সুমনকে নিয়ে ব্রাদার্স ফ্লেভিয়ান কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার জন্য। তারা স্কুলে পৌঁছার আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তার স্বামী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান অপর সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কোর্টে গিয়েছিলেন। চমেক হাসপাতালের মর্গে স্ত্রী সন্তানের লাশ সনাক্ত করার পর তিনিও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। নিহত ফারজানার বাড়ি সাতকানিয়া।

বাকলিয়া বাস্তুহারা কলোনিতে বসবাস করতেন রঙমিস্ত্রি নুরুল ইসলাম। তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনিও। চমেক হাসপাতাল মর্গের সামনে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা। নিহত নুরুল ইসলামের খালাতো ভাই সুলতান মাহমুদ জানান, তাদের বাড়ি উখিয়া। দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন নুরুল ইসলাম। তার একবছর বয়সী একটা ছেলে রয়েছে।

আরেকজন মো. সেলিম পেশায় ভ্যানচালক। বাড়ি মহেশখালী। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় টাইলস মার্কেটে কাজ করতেন। অপরজন আবদুস শুক্কুর, পেশায় রিক্সাচালক। তার বাড়ি পটিয়ায়। রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টায় স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করে লাশ বুঝে নিয়েছেন বলে জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

প্রসঙ্গত, বোরবার (১৭ নভেম্বর) সকাল নয়টায় সংগঠিত ওই দুর্ঘটনায় তীব্র বিস্ফোরণে ধেয়ে আসা দেওয়ালের ইটগুলো পথচারীদের ওপর আঘাত হানে। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হয়েছে নয় জন। আহতদের একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি আটজনকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে আহত-নিহতদের খোঁজ খবর নিতে অনেকেই এসেছেন। সবার আগে প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বোরহানুল হাসান সালেহীন এসে নিহতদের স্বজনদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন।

এরপর চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ছুটে আসেন হাসপাতালে। তিনি লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার এবং পরিবারকে ১ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আহত সবার চিকিৎসা খরচ বহনের ঘোষণা দেন।

এরপর নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন আহতদের দেখতে আসেন হাসপাতালে। তিনি চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণাও দেন তিনি।

রোববার বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিভাগীয় কমিশনারসহ হাসপাতালে আতদের দেখে যাচ্ছেন। নিহতদেও পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করছেন। আহতদের চিকিৎসার ভারও বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এডিএমকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন