আমজনতার ধারণা বদলে দিয়ে জনবান্ধব পুলিশের রোল মডেল ইনি!

1

থানার পাশে কানাও যায় না! পুলিশ মানেই খারাপ! পুলিশের চেহারা মানেই যেন উর্দি পড়া একজন ভয়ংকর অফিসারের প্রতিচ্ছবি চোখে ভেসে ওঠা— অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা এমনটি হলেও ব্যতিক্রমী চিত্রও আছে। মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত তারই যেন মডেল হয়ে উঠছেন একজন পুলিশ পরিদর্শক— মোহাম্মদ মহসীন।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত আছেন। যিনি ইতোমধ্যে প্রচলিত পুলিশিং কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সিএমপিসহ দেশব্যাপী আলোচনায় এসেছেন। বিশেষ করে দেশে প্রথমবারের মত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পুলিশিং কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দিতে থানায় জনগণ নয়, ওসিই যাচ্ছেন জনগণের দ্বারে দ্বারে। তার শুরু করা এই ‘হ্যালো ওসি’ কনসেপ্টটি দাপ্তরিকভাবেই এখন সিএমপির ১৬ থানাতেই চালু রয়েছে।

এছাড়াও ২০১৩ সালে মোহাম্মদ মহসীন যখন বাকলিয়া থানার ওসি পদে দায়িত্বরত ছিলেন তখন তিনি নিজ উদ্যোগেই মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন। যেটি ওই সময়ে নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর ধারণাটিও সিএমপির সব থানায় অফিসিয়ালি চালু করা হয়। এসব কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ মহসীন জনপ্রিয় একজন অফিসার হিসেবে পরিচিতি পান।

গুড পুলিশিংয়ের অভিনব ব্র্যান্ডিং
মোহাম্মদ মহসীন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে নিজের জনপ্রিয়তা অর্জন করেই তৃপ্ত হননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুক থেকেও নিজ থানার নানা সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক আইনগত প্রতিকার দিয়েও দৃষ্টি কেড়েছেন। তার তৈরি করা বিভিন্ন ভিডিও ব্লগিং ও ফেসবুক পোস্ট নজর কেড়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও। সে কারণে নিজ নামে আইডির পাশাপাশি ‘ওসি কোতোয়ালী’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করার নির্দেশ এসেছিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। পুলিশ সদর দপ্তরও চেয়েছিল ওসি মহসীনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে। তার রয়েছে ফেসবুক টুইটার ইউটিউব অ্যাকাউন্ট। এসবকে কাজে লাগিয়ে তিনি ‘গুড পুলিশিং’কে ব্র্যান্ডিং করছেন।

নারী ও শিশু নিয়ে পুলিশিংয়ের পুরস্কার বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড পদক
নারী ও শিশু নিয়ে পুলিশিংয়ের পুরস্কার বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড পদক

মহসীনে মুগ্ধ স্টেট ডিপার্টমেন্ট
শুধু কি তাই! ওসি মোহাম্মদ মহসীনের শুরু করা ‘হ্যালো ওসি’ কার্যক্রমটি সিএমপির ১৬ থানার পাশাপাশি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অধীনে পরিচালিত একটি সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি দেশের পুলিশের বিভিন্ন সেমিনারে অনুসরণ করা হয়েছে। এমনকি এই কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন সম্প্রতি সিএমপি পরিদর্শনে আসা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারীও। জনবান্ধব বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে পুলিশিং করায় এ বছরের জুন মাসে ‘প্রমোশন অফ জেন্ডার সেনসিটিভিটি’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত হন ওসি মোহাম্মদ মহসীন। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এবারই একজন পুরুষ কর্মকর্তা এ পদকে ভূষিত হন তিনি। নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, পারিবারিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা গ্রহণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দৃশ্যমান ভূমিকা পালন, যৌতুক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহ নিরসনে প্রদক্ষেপ গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক ভূমিকা ও্ ভিকটিমদের সহায়তায় ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে এ পদক প্রদান করা হয়।

মসজিদভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের নতুন ধারণা
২০১৩ সালে ওসি মহসীন যখন সিএমপির বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন তখনই তিনি চালু করলেন মসজিদভিত্তিক জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এরপর তিনি বাকলিয়া থেকে বায়েজিদ থানায় গেলেও সেখানে বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে এই কার্যক্রম চালু রাখেন। পরবর্তীতে ওসি কোতোয়ালী হিসেবে যখন দায়িত্বে আসেন তখনও তিনি সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। এবার সেখানে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির ও প্যাগোডায় এই কার্যক্রম চালু করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এসে সিএমপির ওসিদের অফিসিয়ালি এই কার্যক্রম শুরু নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান। যেটি প্রতি ১৫ দিন পর পর লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জমা দিতে হয় ওসিদের।

এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাকলিয়া থানায় থাকতে মসজিদভিত্তিক যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করেছি সেটা বায়েজিদ হয়ে কোতোয়ালীতেও অব্যাহত রেখেছি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমি এ পর্যন্ত প্রায় ৬০টির বেশি মসজিদে প্রতি শুক্রবার সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছি। এর ফলে আইন প্রয়োগ করে যতটুকু না অপরাধ দমন করা না যায় তার চেয়ে তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা সম্ভব হয়।’

চট্টগ্রামের ৬০টিরও বেশি মসজিদে প্রতি শুক্রবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন ওসি মহসীন।
চট্টগ্রামের ৬০টিরও বেশি মসজিদে প্রতি শুক্রবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন ওসি মহসীন।

‘হ্যালো ওসি’ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে
পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে এ বছরের শুরুতে কোতোয়ালী থানা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টলের ভিড়ে ‘হ্যালো ওসি’ নামে একটি ব্যতিক্রমী বুথ স্থাপন করেন ওসি মোহাম্মদ মহসীন। ব্যতিক্রমী এই বুথে বসে ওসি মহসীন নিজেই সরাসরি সেবাপ্রার্থী জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন, দিয়েছেন তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান। সেই সময় ব্যতিক্রমী এই বুথের কার্যক্রম ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল পুলিশ ও জনগণের মাঝে। এরপর গত ১০ জুলাই কোতোয়ালী থানার বিআরটিসির চৌদ্দ জামতলা এলাকায় ‘হ্যালো ওসি’ বুথ নিয়ে হাজির হন ওসি মহসীন। ‘হ্যালো ওসি’ কার্যক্রমটি নগরবাসীর পাশাপাশি নজর কেড়েছে সিএমপির অভিভাবক মাহবুবর রহমানেরও। তারপরই গত ১৭ জুলাই দুপুরে সিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় মাহবুবর রহমান নগরীর ১৬ থানার ওসিদের এ কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস, ইপিট্যাপের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট তানিক মুনীর বলেছেন, ‘আমি ১৩ বছর ধরে মার্কিন পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশে কাজ করছি। তবে গত দুই বছর ধরে সিএমপির সঙ্গে কাজ করছি। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, ওসি মহসীন ভাইয়ের চালু করা কনসেপ্ট যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস, ইপিট্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি দেশের পুলিশ গ্রহণ করেছে। তারাও এই ‘হ্যালো ওসি’ কনসেপ্টটি কার্যকর করছে।’

সমাধান যখন ফেসবুকেই
ফেসবুকে জনপ্রিয় মোহাম্মদ মহসীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনও সমস্যা দেখলেই তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন। এরকম নিজ থানার মধ্যে অসংখ্য সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে এ বছরের ১২ জুন। এমনিতে রমজানে ফুটপাত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকারদের ছেড়ে দিলেও এর আগে থেকে দিনের বেলায় হকারমুক্ত করা হয় নগরীর কোতোয়ালী থানার নিউমার্কেট এলাকাকে। তবে ঈদের ছুটিতে সেই নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত আবার ভাসমান হকারদের দখলে চলে যায়। এ নিয়ে ডিএসসি নামের একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপে পোস্ট দেন এক ব্যক্তি। এর ঘন্টাদুয়েকের মধ্যেই কোতোয়ালী থানা পুলিশ সব ভাসমান হকার তুলে দিয়ে যাতায়াতের জন্য ফুটপাতকে উন্মুক্ত করে দেয়। এ ঘটনার পর আবার সেই পোস্টদাতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কোতোয়ালী থানার ওসিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এতে বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী ওসি মোহাম্মদ মহসীনের প্রশংসা করেছেন।

এটিই শুধু নয়, এর আগেও ফেসবুকে পোস্ট দেখে এক কলেজছাত্রীকে ইভিটিজিংকারী দুই বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছিলেন ওসি মহসীন। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন ওই ছাত্রী। এ প্রসঙ্গে ওসি মহসীন বলেন, ‘আমি ফেসবুকে সক্রিয়। মানুষ আমার ফেসবুকের অ্যাক্টিভিটিকে পছন্দ করেন বলে মনে হয়। আর আমিও সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমকে জনগণের মাঝে পজেটিভলি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি কোনও সমস্যার কথা চোখে পড়লেই তা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে শুধু আমার থানা এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্যই ফোন আসে না। সিএমপির অন্য থানা এমনকি জেলা ও জেলার বাইরে থেকেও অনেকে নক দেন। কোনও একটা সমস্যাজনিত কেউ পোস্ট দিলে সেখানে আমাকে ম্যানশন করা হচ্ছে। বিষয়টিকে আমি মনে করি তারা আমাকে আস্থায় নিয়েছেন বলেই আমাকে ম্যানশন করছেন। আমিও সিনিয়র স্যার কিংবা জুনিয়র অফিসারদের অনুরোধের মাধ্যমে যতটুকু সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা যায় তা চেষ্টা করি। মোট কথা যে কোনও ওয়ে দিয়ে আমি পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টায় থাকি।’

অভিভাবকের মূল্যায়ন
ওসি মহসীন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘মহসীনের হ্যালো ওসি কার্যক্রমটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তার চালু করা উদ্যোগটি প্রশংসনীয় বলেই আমি সিএমপির সব থানায় চালু করেছি। এর মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি পুলিশ যাচ্ছে আর পুলিশের কাছাকাছি মানুষ আসার সুযোগ হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও তিনি ফেসবুকে খুবই জনপ্রিয়। আমিও চাই তিনি তার এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গুড পুলিশিংয়ের ব্র্যান্ডিং করুক। জনগণকে রেসপনস করুক।’

স্কুলে স্কুলে জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম
স্কুলে স্কুলে জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম

মানুষের কাছাকাছি, মানুষের পাশাপাশি
ওসি মহসীনের এমন কার্যক্রমকে নিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজনও দেখছেন অত্যন্ত পজেটিভলি। চট্টগ্রাম জেলা সৎ সংঘের কার্যকরী সভাপতি সজীব কুমার সিংহ রুবেল বলেন, ‘কোতোয়ালীর ওসি মহসীন ভাইকে না দেখলে বুঝতাম না পুলিশ অফিসার কতটুকু মানবিক আর পেশাদার হওয়া যায়। উনাকে আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন যখনই যে বিষয়ে অনুষ্ঠান বলেন কিংবা কোনও সমস্যায় বলেন সহযোগিতা চেয়েছি তখনই তিনি আইনগত সহযোগিতা করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষায় উনি সর্বদা সচেষ্ট আছেন। উনার মতই সব থানার ওসিদের আচরণ হওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘মহসীন সাহেব বিভিন্ন মসজিদ মন্দির প্যাগোডায় গিয়ে গিয়ে সন্ত্রাস মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী যেভাবে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। ভালো কাজকে অবশ্যই ভালো বলতে হবে। উনার এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইনের প্রয়োগের আগেই অপরাধ নির্মূলে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। মহসীন সাহেব এমনেও আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শতভাগ পেশাদারিত্বের বাইরেও আন্তরিক আচরণ করেন। তার সফলতা কামনা করছি।’

আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তাহের আল যাবেরী আল মাদানী বলেন, ‘সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদক এসব বিষয়ে ইসলামের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তা আমরা জুমার নামাজের সময় কিংবা যে কোনও ইসলামী সম্মেলনে বলে থাকি। এরপরও এসব থেকে অনেককে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে তাদের অবধারিতভাবে যেতে হয় পুলিশের হাতে। কিন্তু সেই পুলিশই যখন মসজিদে এসে এসব বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন বিষয়টি খুবই তাৎপর্যবহ। যেটি আমি অনেক দিন থেকে দেখে আসছি কোতোয়ালীর ওসি মহসীন সাহেবকে। আল্লাহ তাকে রহমত করুক দেশ ও জনগণের সেবা করার। তার এই প্রশংসনীয় ভালো কাজের প্রতিদান তার বাহিনীর পাশাপাশি নিশ্চয় আখেরাতেও পাবেন।’

পথ চলাতেই আনন্দ
তবে পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি সিনিয়র নাগরিকরা যখন সিএমপির এই চৌকস ও জনপ্রিয় পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ— এমন অবস্থায় তার প্রতিক্রিয়া কী জানতে চাইলে ওসি মহসীন বলেন, ‘পুলিশের কাজই হচ্ছে জনগণের সেবা করা। আমি শুধুমাত্র সততা, নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার সাথে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। এখানে আমার বিশেষ কোনও কৃতিত্ব নেই। দিন শেষে জনগণের সেবা কতুটুকু করতে পেরেছি সেটাই আসল।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের পোশাক পরেছি, মানুষের সেবা করার জন্যই। মানুষকে যদি সন্তুষ্ট করতে না পারি তাহলে এই পোশাক গায়ে রাখার নৈতিক অধিকার তো থাকেনা। নিজের অবস্থান থেকে চেষ্টা করি এলাকার লোকজনের আইনগত সমস্যাগুলো সমাধানের। কেউ যাতে অযতা নির্যাতিত না হয়। থানায় এসে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়। হয়রানির শিকার না হয়।’

স্কুলে স্কুলে জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম
স্কুলে স্কুলে জঙ্গিবাদ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম

মধুর আক্ষেপ পরিবারের
নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে নগরবাসীর কাছ থেকে বাহবা পেলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য পরিবারকে খুবই কম সময় দেওয়া হয় ওসি মহসীনের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে কোতোয়ালীর মত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি থানায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পরিবারকে সঠিকভাবে সময় দিতে পারি না। সে কারণে তাদের অনেক আক্ষেপ। এরপরও যখন রাত দুইটায় বাসায় প্রবেশ করি তখন আমার স্ত্রী মুনা আমার জন্য খাবার না খেয়ে টেবিলে বসে অপেক্ষা করেন। তখন তার আক্ষেপের জবাবে বলি, কাজের একটা বয়স ও সুযোগ থাকে। আর আমার সেই সময় ও সুযোগটি এখনই। তাই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এরকম স্বামী স্ত্রীর একটু আত্মত্যাগ তো করতেই হবে! তখন আমার স্ত্রীও তার অভিযোগের তীরটি নিয়ে আমাকে কাজ করার উৎসাহ দেন।’

দেড় যুগের সফল ক্যারিয়ার
পুলিশ বিভাগে সাহসী অফিসার হিসেবে পরিচিত পিপিএম পুরস্কারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ মহসিনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। ২০০১ সালে শিক্ষানবিশ এসআই হিসেবে সারদায় যোগ দেন মহসিন। এরপর ২০০২ সালে যোগ দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে। ২০০৩ সালে একই পদে যোগ দেন নড়াইল সদর থানায়। ২০০৫ সালে এসআই হিসেবে যোগ দেন সিএমপির খুলশী থানায়। এরপর গোয়েন্দা বিভাগ ঘুরে সেখান থেকে কোতোয়ালী থানায় কিছুদিন কাজ করার পর যোগ দেন ফের গোয়েন্দা বিভাগে। সেখান থেকে বোমা নিস্ক্রিয়করণ প্রশিক্ষণ নিতে সিএমপির পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেড় বছর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর থেকে পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান ২০১৩। ওই বছর ৫ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন সিএমপির বাকলিয়া থানায়। ব্যক্তিগতভাবে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক মহসিন বায়েজিদ ও গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. আব্দুল আহাদ বলেছেন

    নজির বিহীন দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন তিনি , যেদিন ওনি কোতোয়ালী ওসি হিসাবে আসে সেদিন বলে এই আমরা নতুন কিছুই দেখবো , বাস্তবে তাই দেখলাম , আমার খুব কাছের মানুষ , দোয়া করি এই রকম সৎ নিষ্টাবান অফিসার বাংলার প্রতি থানায় থানায় তৈরি হোক ,

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন