আক্রান্ত
১১৯৩১
সুস্থ
১৪৩০
মৃত্যু
২১৭

জ্বলছে চসিকের ময়লার পাহাড়, শ্বাস নিতেই কষ্ট হালিশহর আনন্দবাজারে (ভিডিওসহ)

1
high flow nasal cannula – mobile

আবর্জনা অপসারণে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে আবর্জনার স্তুপ পোড়াচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এতে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন আনন্দবাজার এলাকার আশেপাশের জনবসতি। উন্মুক্ত স্থানে এসব আবর্জনা পোড়ানোর ফলে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে পুরো এলাকায় নিশ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে— অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, সারা বছরই জ্বালানো হয় এসব আবর্জনার স্তূপ। এতে জনস্বাস্থ্যের হুমকির পাশাপাশি আগুনের লেলিহান পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন আনন্দবাজার এলাকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টেনজিং গ্রাউন্ডতে (টিজি) গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনার ভাগাড়। প্রায় ৩০০-৩৫০ মিটারের উচ্চতার ওই আবর্জনার ভাগাড়ে আগুন জ্বলছে। সেখান থেকে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। আবর্জনার স্তূপ থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য ধাতু খুঁজছে কিছু টোকাই ও নিম্ন শ্রেণির নারী।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরের সমস্ত ময়লা ভ্যান ও গাড়ির মাধ্যমে সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সংগ্রহকৃত এসব আবর্জনা ডাম্পিং করা হয় হালিশহরের আনন্দবাজারের টিজি ও অক্সিজেন এলাকায়। শহরের দক্ষিণ দিকে সমস্ত আবর্জনা নেওয়া হয় হালিশহর টেনজিং গ্রাউন্ডে (টিজিতে)। অপরদিকে শহরের উত্তর দিকে সমস্ত আবর্জনাগুলো ডাম্পিং করা হয় অক্সিজেন এলাকায়। কয়েক যুগ ধরে শহরের আবর্জনা জমতে জমতে এখন আবর্জনার বিশাল পাহাড় গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, আবর্জনা কমাতে সিটি কর্পোরেশনের লোকেরাই সেখানে আগুন দিচ্ছেন। ৩০০ মিটারের আবর্জনার পাহাড়ে কেউ ভয়ে উঠার কথা নয়। বছরের ৩৬৫ দিনই জ্বলছে আবর্জনার পাহাড়। খন্ড খন্ডভাবে আগুনের লেলিহান ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বেশিরভাগ আবর্জনা পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়। কিন্তু সেখানে প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল জাতীয় আবর্জনা পোড়ানো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ওই আবর্জনা পুড়লে সালফার, নাইট্রোজেনজনিত বিভিন্ন গ্যাসের সঙ্গে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়। এগুলো আবার প্রকাশ্যে পুড়লে ‘ডাইঅক্সিন’ নামের কঠিন পদার্থ থেকে একটি বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এসব গ্যাস থেকে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগসহ মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া উন্মুক্তভাবে প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল পোড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে আবর্জনার ভাগাড় পোড়ানো অন্যায়। যদি এর সত্যতা পাওয়া যায় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নোটিশ করা হবে সিটি কর্পোরেশনকে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, আবর্জনার ভাগাড়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কর্পোরেশনের কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত নয়। স্থানীয়রা কেউ এ কাজটি করছেন কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, হালিশহরের টেনজিং গ্রাউন্ডে আবর্জনা দিয়ে বিদ্যুৎ করার জন্য চিন্তা করছেন মেয়র মহোদয়। কাজটি কোনও থার্ড পার্টি বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে দিতে ইতোমধ্যে আলোচনাও হয়েছে। সুবিধামতো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় ওই আবর্জনার কোনও সুহারা করা যাচ্ছে না।

এসএ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
1 মন্তব্য
  1. ইকবাল মাহমুদ বলেছেন

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও এসব ময়লা-আবর্জনার কাছে নিতান্তই অসহায়। আর পুরোপুরি উদাসীন পরিবেশ অধিদপ্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm