সামাজিক আন্দোলনই দুর্নীতি দমনে ভূমিকা রাখবে : শ্রীলংকায় ড. সেলিম

0

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ বলেছেন, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, সততা, নিষ্ঠা, নৈতিকতা ও উত্তমচর্চার ব্যাপক প্রসারসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও নিবারণ সম্ভব।

সম্প্রতি শ্রীলংকার কলম্বোতে সাফার (সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব একাউন্ট্যান্টস) উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাফা কনফারেন্সে ‌‘কমবেটিং করাপশন ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বাংলাদেশসহ সাউথ এশিয়ার উল্লেখযোগ্য পেশাবিদ হিসাব বিজ্ঞানী ও অন্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ড. সেলিম দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং হিসাব বিজ্ঞান মান (এ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড) কমিটির সদস্য হিসাবে মিটিংএ অংশগ্রহণ করেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনে ড. সেলিম বলেন, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ দারিদ্র বিমোচন, আয় বৈষম্য, সামাজিক, মানসিক ও মানবিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি তথা সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক রিপোর্ট অনুসারে বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ৬ বিলিয়ন লোক দুর্নীতির সমস্যায় আংশকাজনকভাবে জর্জরিত। একইভাবে বিশ্বের ৬৮ শতাংশ দেশে দুর্নীতির বিভিন্ন ইস্যূগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. সেলিম তার প্রবন্ধে সারা বিশ্বে আলোচিত কমপক্ষে ৫৩টি দুর্নীতিবিরোধী কর্মকৌশলের উপর আলোকপাত করে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি, আইন এবং দুর্নীতি দমনে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কমপক্ষে ৩০টিরও বেশী আইনী কাঠামো বর্তমান বাংলাদেশে দুর্নীতিদমন, নিবারণ, নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষায় প্রয়োগ রয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার নীতি, দুর্নীতিবিরোধী জাতিসংঘের কনভেনশন, তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমনে নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। এসব তথ্যের মধ্যে দুর্নীতিদমন কমিশন ২০১৮ সালে অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে হটলাইন ১৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৬টি কল গ্রহণ করেন এবং তন্মধ্যে ১৪৪টি অনুসন্ধানের জন্য বিবেচিত হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে মোট প্রাপ্ত অভিযোগ ১৬ হাজার ৬০৬; যার মধ্যে ১ হাজার ২৬৫টি অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়।

ড. সেলিম আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের দুর্নীতিবিরোধী অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। যেগুলো দুর্নীতিবিরোধী মতবাদ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৮ সালে সারাদেশে ৩ হাজার ৭৩৬টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ২৬ হাজার ১২৩টি সততা সংঘ এবং ১ হাজার ৯৭২টি সততা স্টোর গড়ে তুলেছেন যেগুলো উত্তম চর্চাসহ দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়তে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সততা সংঘ ও স্টোরগুলো ২০১৮ তে প্রায় ১৭ হাজার ৮৬৬ টি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কার্যক্রমের মধ্যে আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, মানববন্ধন, সেমিনার, র‌্যালি, নাটক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ইত্যাদি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

এএইচ

Loading...
আরও পড়ুন