রাঙামাটিতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার

0

নবীন থেকে প্রবীণ। সব বয়সী মানুষদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী তৈরি করতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কার্যক্রম। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এ ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কার্যক্রমের যাত্রা রাঙামাটিতে জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’- এমন স্লোগানে পার্বত্য শহর রাঙামাটির আনাচে-কানাচে বইয়ের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারটি। অন্যদিকে লেখক ও বইপ্রেমীরা সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার চালু হয় রাজধানীসহ দেশের চারটি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী) শহরে। এরপর বর্তমানে এর পরিধি বেড়ে যাওয়ায় দেশের ৬৪টি জেলার মোট ৪৫০টি উপজেলার ৩ হাজারের অধিক স্পটে সরাসরি ৩ লক্ষাধিক এবং পরোক্ষভাবে আরও ছয় লক্ষাধিক পাঠক-সদস্যদের মধ্যে বই দেওয়া-নেওয়া করছে। গ্রন্থাগারগুলোতে আছে বিশেষ করে উপন্যাস, গল্পের বই, রম্য রচনা, ভ্রমণ কাহিনী, প্রবন্ধের বই, জীবনীগ্রন্থ থেকে শুরু করে ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজতত্ত্বসহ যাবতীয় সব বই। চলতি বছরের জুলাইয়ে রাঙামাটিতে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে জেলা শহরের ৪০টি পয়েন্টে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অসীম দাশ বলেন, ‘আমাদের কলেজের লাইব্রেরি খুব একটা সমৃদ্ধশালী না হওয়ায় বই পড়ার জন্য আগে ভেদভেদীস্থ পাবলিক লাইব্রেরিতে যেতে হতো। কিন্তু কলেজে এখন সপ্তাহের প্রতি বুধবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আসায় অর্থ ও সময় দুটোই লাগব হচ্ছে আমাদের।’

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিন্দিতা ধর বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গল্পের বই পড়ার প্রতি আমার বেশ আগ্রহ। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য হয়ে প্রতি সপ্তাহের আমি বিভিন্ন বই বাসায় নিয়ে আসি পড়ার জন্য। পরে সপ্তাহে সেটি পড়ে, অন্য আরেকটি আনি। আমার মতে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। প্রত্যেক উপজেলায় এ কার্যক্রম করা গেলে ওখানকার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব ধরণের মানুষের উপকার হতো।

Rangamati-is-a-mobile-library2

ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রন্থাগার কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ নতুন প্রজন্মকে বইপ্রেমী, লাইব্রেরিমুখী ও তাদের জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়িয়ে তুলতে সরকারের এ উদ্যোগ। রাঙামাটিতে আমরা সপ্তাহে ছয়দিন জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গ্রন্থাগার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।। যে কোনো মানুষ এ সময়ের মধ্যে সদস্য হয়ে বই বাড়ি নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। রাঙামাটিতে বর্তমানে আমাদের পাঠক-সদস্য সংখ্যা দেড়শ এর অধিক। দিন দিন পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে।’

লাইব্রেরির সদস্য হওয়ার নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ধরনের সদস্যপদ দিয়ে থাকি। একটি সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ। সাধারণ সদস্য হতে ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা অর্থ বাবদ ১০০ টাকা আর বিশেষ সদস্য হতে লাগে ২০০ টাকা। সাধারণ সদস্যরা অনধিক ১৫০ টাকা ও বিশেষ সদস্যরা অনধিক ২৫০ টাকা মূল্যের একটি বই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

তরুণ কবি সাইফুল বিন হাসান মনে করেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কার্যক্রম চালু হওয়ায় গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে যে কোনো মানুষ সহজেই হাতে বই পাচ্ছেন। অন্যদিকে এ গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে সববয়সী মানুষ দেশ, বিশ্ব, সংস্কৃতি সর্ম্পকে জানতে পারছে। আমি মনে করি, এমন মহৎ উদ্যোগে বাংলা সাহিত্যের প্রসারেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’

পিআর/এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন