ফ্রান্সের টানা দ্বিতীয় জয়, পর্তুগালের প্রথম

ইউরো বাছাই

0

কিংসলে কোম্যানের জোড়া গোলে ইউরো ২০২০ বাছাই পর্বে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স ৪-১ ব্যবধানে ধসিয়ে দিয়েছে আলবেনিয়াকে। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল ৪-২ গোলে ধরাশায়ী করেছে সার্বিয়াকে। ইউরো বাছাইয়ের গ্রুপ ‘এইচ’র নিজেদের পঞ্চম ম্যচে আলবেনিয়ার মুখোমুখ হয় ফ্রান্স। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতে গ্রুপে সবার শীর্ষে অবস্থান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। আলবেনিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে গ্রিজম্যান-ভারানরা।

ফ্রান্স-আলবেনিয়া
ইনজুরির কারণে তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়ায় দল সাঁজিয়েছিলেন কোচ দিদিয়ের দেশাম্প। তবে এমবাপের অভাব বুঝতে দেননি দলের বাকি সদস্যরা। অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান, কিংসলে কোম্যান, থমাস লেমার আর অলিভার জিরুডকে নিয়ে গড়া আক্রমণ ভাগের কাছে পাত্তায় পায়নি আলবেনিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে শুরু করে ফ্রান্স। আর তাই তো গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি ১০ মিনিটও। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের এসিস্ট থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন কিংসলে কোম্যান। আর ২৭ মিনিটে দলের লিড দ্বিগুণ করেন চেলসি স্ট্রাইকার অলিভার জিরুড।

প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বিশ্বজয়ীদের সামনে। তবে বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের ভুলে তা আর সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে লুকাস হার্নান্দেজকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তবে পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করতে ব্যর্থ গ্রিজম্যান। আর এতেই বিরতির যাওয়ার আগে ৩-০ তে এগিয়ে যাওয়া হয়নি দেশাম্প শিষ্যদের।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কোম্যান নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৩-০ গোলের লিড পায় ফ্রান্স। আর ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জনাথন ইকোনের গোল করে আলবেনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। ফ্রান্স এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে হুগো লরিস আলবেনিয়ার সোকল চিকাল্লেসিকে ফাউল করে বসলে পেনাল্টি পায় আলবেনিয়া। পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করতে গ্রিজম্যান ব্যর্থ হলেও চিকাল্লেসি ভুল করেননি।

শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে কেবল হারের ব্যবধানই কমায় আলবেনিয়া। আর পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান পাকা করল ফ্রান্স। গ্রুপ ‘এইচ’এ অন্যান্য দল গুলো হলো তুরস্ক, আইসল্যান্ড, মলদোভা এবং অ্যান্ডোররা। নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে অ্যান্ডোররার বিপক্ষে ১১ স্পেটেম্বর লড়বে ফ্রান্স।

পর্তুগাল-সার্বিয়া

ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘বি’তে পর্তুগালের সাথে আরও আছে ইউক্রেন, লুক্সেমবার্গ, সার্বিয়া এবং লিথুনিয়া। বাছাইপর্বে এর আগে দুই ম্যাচ খেললেও জয়ের দেখা পায়নি পর্তুগাল। তবে সার্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোর ফেরার ম্যাচে ঠিকই ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যরা।

সার্বিয়ার স্টাডিওন রাহকো মিতিচে মুখোমুখি হয় দুই দল। আর রোনালদোর ফেরার ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। সফরকারী হয়েও সার্বিয়াকে এক প্রকার পাত্তা না দিয়ে খেলতে থাকে পর্তুগিজরা। প্রথমার্ধে শেষদিকে ৪২ মিনিটে উইলিয়াম কার্ভাহলো গোল করে এগিয়ে দেন পর্তুগালকে।

বিরতি থেকে ফিরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পর্তুগাল। আর তাই তো ৫৮ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন গঞ্চালো গুইদেস। ব্রুনো ফার্নান্দেজের এসিস্ট থেকে লক্ষ্যভেদ করতে একটুও ভুল করেননি গুইদেস। তবে এবার পালা সার্বিয়ার, নিকোলা মিলাঙ্কোভিচের গোলে ব্যবধান ২-১ করে সার্বিয়ানরা। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডুসান ট্যাডিচের এসিস্ট থেকে গোল করেন তিনি।

এর ঠিক মিনিট ১২ পরে বার্নার্দো সিলভার দারুণ এক পাস থেকে ম্যাচে নিজের প্রথম এবং দলের তৃতীয় গোল করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৮০ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন এই পর্তুগিজ তারকা। রোনালদোর গোলের ঠিক পাঁচ মিনিট পর ৮৫ মিনিটে আলেকক্সান্ডার মিট্রোভিচ গোল করে আবারও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ডুসান ট্যাডিচের দ্বিতীয় এসিস্টে গোল করেন মিট্রোভিচ।

তবে বার্নার্দো সিলভা এক মিনিট পর ৮৬ মিনিটে গোল করে সার্বিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। সিলভার গোলের যোগানদাতা ছিলেন রাফায়েল গুইয়েরো। আর এর সাথে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। আর এতেই গ্রুপ ‘বি’তে তিন ম্যাচে এক জয় আর বাকি দুইটিতে ড্র করে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে লিথুনিয়ার বিপক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাতে পৌনে একটায় লড়বে পর্তুগাল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন