দেড় লাখ চামড়া নষ্ট : আয়বঞ্চিত মাদ্রাসা-এতিমখানা

0

এবারের কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হওয়ায় বঞ্চিত হয়েছে অনুদাননির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো।

এ কোরবানির মৌসুমে চট্টগ্রামে দেড় লাখের বেশি চামড়া নষ্ট হওয়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এই ঈদে কোরবানিকৃত পশুর চামড়ায় আশানরুপ মূল্য না পাওয়ার কারণে নামমাত্র মূল্যে বিক্রয়, রাস্তায় ফেলে দেওয়া, পুতে ফেলা, নদীতে ফেলে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে৷ এতে কোরবানির চামড়া বিক্রয় থেকে পাওয়া অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে মাদ্রাসা-এতিমখানা। মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষদের অনুদান ও সরকারি অনুদানেই চলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অধীনে প্রায় ১শ প্রতিষ্ঠান ও ৩০ হাজারের মত ছাত্র রয়েছে। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৬ হাজার ছাত্র ও আবাসিকে ২ হাজারের বেশী ছাত্র রয়েছে। এ বছর প্রায় ২০ হাজার চামড়া থেকে ৫০ লাখের মত টাকা আয় হবে। গতবছর ৭ হাজার চামড়া থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। এ বছর চামড়ার সংখ্যা তিনগুণ হলেও টাকার অংক কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সেক্রটারি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের মাদ্রাসা যদিও চামড়ার টাকার উপর নির্ভরশীল নয়। তবে এবারে চামড়ার সংখ্যা বাড়লেও টাকার অংক কমেছে। এ বছর বিশ হাজার চামড়া থেকে ৫০ লাখ আয়ের সম্ভাবনা আছে। গতবছর ৭ হাজার চামড়া থেকে ৩০ লাখ আয় হয়েছিল।

ফটিকছড়ির নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. দৌলত আলী খান বলেন, চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় আমরা আগের তুলনায় ১৫ লাখ টাকা কম পেয়েছি। এ বছর ৮২০ চামড়া ২০০ টাকা করে বিক্রয় করেছি। আগের বছর ৪২০ টাকা করে বিক্রি করেছিলাম। এতে মাদ্রাসায় কিছুটা আর্থিক সংকট দেখা দেবে।

ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার মাওলানা মো সালাউদ্দিন জানান, কোরবানির চামড়া বিক্রয়ের টাকা থেকে মাদ্রাসার আয় হয়। আগে ১৫ -২২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হত। তবে বিগত দুই বছর ধরে চামড়া থেকে টাকা আয় কমে ৪-৫ লাখে চলে আসছে। এ বছর আতুরারডিপু টেনারিতে চামড়া দিয়ে আসার পর এখনো কোন টাকা এখনো পাইনি। যারা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দরপতন করে গরীবের হক নষ্ট করেছে সরকারের উচিত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। আমাদের মাদ্রাসা হোস্টেলে ১৪শ ছাত্র রয়েছে। প্রতিমাসে ব্যয় হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা।

এতিমখানা ও মাদ্রাসায় আবাসন, খাদ্য, বই, পোশাকসহ প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের সিংহভাগ আসে। এসব প্রতিষ্ঠানে গরীব পরিবারের সন্তানেরা পড়ালেখা করে থাকে। সাধারণ মানুষের সারা বছরের অনুদানে চলে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে আয়ের অর্ধেক অংশ আসে কোরবানির চামড়া ও যাকাতের টাকা থেকে। এবারের চামড়ার নজিরবিহীন দরপতনের কারণে কেউ পায়নি চামড়ার মূল্য। ফলে অনুদাননির্ভর মাদ্রাসা ও এতিমখানা গুলো চামড়া থেকে টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধানেরা আর্থিক সংকট মোকাবেলা করে সামনের দিনগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ফলে কয়েকলাখ এতিমের পড়ালেখা,আবাসন ও খাদ্য ব্যয় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সিএম/এসএস

Loading...
আরও পড়ুন