বাঁশখালী ও আনোয়ারার বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮৭৪ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন

উপকূলবাসীর সঙ্গে এমপির কুশল বিনিময়, মিষ্টি বিতরণ

চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলবর্তী বাঁশখালী-আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হতে যাচ্ছে। উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ রক্ষায় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারর্পাসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়।

সভায় আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা অর্থ-প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খানও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বরাদ্দের খবরে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সিআইপি এই স্থানীয় মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ এবং বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে কুশল বিনিময় করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদন হওয়া বাঁশখালী-আনোয়ারা দুই উপজেলার উপকূলের পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙনরোধের প্রকল্পটি আগামী ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সেসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ সদস্যের সমীক্ষা কমিটি প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে সুপারিশ করে। কয়েকবার প্রকল্পটি এননেক সভায় অনুমোদন হওয়ার আগে মূল্যায়ন কমিটি থেকে ফেরত যায়। চলতি বছরের গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা উপজেলায় ৫ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার ও বাঁশখালী উপজেলায় ৭ দশমিক ৫১০ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ করতে ডিপিপিটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ এবং ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সিআইপি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালীর পুকুরিয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ, আনোয়ারার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের সাঙ্গু নদী সংলগ্ন এলাকাসমূহ নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া, আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকাসমূহ জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা পাবে। প্রকল্প এলাকায় কৃষি নিবিড়তা বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন, লবণ চাষের ক্ষেত্র বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ, জীববৈচিত্রের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, ‘এননেকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে বাঁশখালী-আনোয়ারা উপকূলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। বিনোদন ক্ষেত্রেও নানামুখী সৌন্দর্য বাড়বে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!