আক্রান্ত
২৩৮৭০
সুস্থ
১৮৬৭৪
মৃত্যু
৩১৩

করোনাকালেই বেতনের জুলুম সাইডার স্কুলে, ক্লাসছাড়া করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে আরও ১২%

0

নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্তু বাস্তবে পুরোটাই ‘ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান’। সরকারি নির্দেশনার ধারও ধারে না তারা। এমনই উদ্ধত চট্টগ্রাম নগরীর ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ করোনার দুর্ভোগের মধ্যেই অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায় করে যাচ্ছে।

করোনার কবলে পড়ে সবখানেই যখন রীতিমতো করুণ পরিস্থিতি, সেখানে নগরীর নাসিরাবাদে অবস্থিত এই স্কুলটি আগের বেতনের ওপর আরও ১২ শতাংশ অতিরিক্ত বেতন দাবি করছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। অতিরিক্ত এই টিউশন ফি যেসব শিক্ষার্থী দিতে পারছে না, চলমান অনলাইন ক্লাস থেকে তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগ মিলেছে অভিভাবকদের কাছ থেকে।

করোনার দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে যখন বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল টিউশন ফি মওকুফ কিংবা অর্ধেক নেওয়ার জন্য, তখন সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল চলছে উল্টো পথে। এই স্কুলে স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টিউশন ফি আদায় করা হতো, করোনাকালে তার চেয়েও ১২ শতাংশ ফি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও অভিনব শঠতার আশ্রয় নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা ১২ শতাংশ ফি বাড়িয়ে ১০ শতাংশ ফি মওকুফের কথা ঘোষণা করলেও বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে মূল বেতনের চেয়ে আরও দুই শতাংশ বেশি।

গত এপ্রিল থেকে অনেক অভিভাবকই এমন উচ্চহারের টিউশন ফি পরিশোধ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে না পেরে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সাইডারের অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মাসিক বেতন আংশিক মওকুফ, টিউশন ফি পরিশোধে অক্ষম অভিভাবকদের কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের সুবিধা দেওয়ার আবেদন জানান। নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত টিউশন ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করারও আবেদন জানিয়েছেন তারা।

কিন্তু অভিভাবকদের এসব দাবির বিষয়ে কিছুই করার নেই বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষ ভারতীয় নাগরিক জ্ঞানেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী। সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নাদের খানের সঙ্গে এ বিষয়ে অভিভাবকরা কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সাথে ভীষণ দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন এ ব্যাপারে নাদের খানের সঙ্গে কথা বললে তাতেও কোনো ইতিবাচক সাড়া আসেনি।

এ অবস্থায় গত ৩ অক্টোবর অভিভাবকরা মিলে ‘অভিভাবক ফোরাম’ গঠন করে ৭ অক্টোবর আবার চিঠি পাঠান অধ্যক্ষ বরাবরে। জানা গেছে, এই চিঠি পাওয়ার পর তাতে স্বাক্ষর করা অভিভাবকদের সন্তানদেরকে গত ১১ অক্টোবর থেকে গুগল ক্লাসরুম ও জুমে চলমান স্কুলের ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে।

এমন অমানবিক ঘটনার শিকার ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা গত ১২ অক্টোবর স্কুলের অধ্যক্ষ জ্ঞানেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীকে ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে অনুরােধ জানান। কিন্তু এবারেও অধ্যক্ষ এর কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি। পরে গত ১৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী ওই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রি ডাকযােগে চিঠি পাঠানো হয় স্কুলে। কর্তৃপক্ষ এখনও সেই চিঠির জবাব দেয়নি।

সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অভিভাবক ফোরামের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আফরােজা আক্তার জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটিই নেই। অথচ ইংরেজিমাধ্যম স্কুলগুলােতে উচ্চহারে টিউশন ফি নিয়ন্ত্রণে ২০১৭ সালে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা জারি করেন। ওই বিধিমালায় নির্দেশনা রয়েছে, স্কুলের বেতন, খরচ, শিক্ষক নিয়ােগ ও স্কুল পরিচালনার সমস্ত বিষয় নির্ধারিত হবে একটি নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটি গঠিত হবে অভিভাবকদের মধ্য থেকে দুজন নির্বাচিত সদস্যের সমন্বয়ে।

কিন্তু সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এসব নির্দেশনার ধার ধারে না। সেখানে কর্তৃপক্ষই নিজেদের মতো করে টিউশনসহ অন্যান্য ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়।

এদিকে অভিভাবকদের ‘ইডিয়ট’ হিসেবে অভিহিত করে সাইডার স্কুলের চেয়ারম্যান ও পেডরোলো এনকে লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা নাদের খান বলেন, ‘আমার স্কুলটি একটি নন প্রফিটেবল স্কুল। এই স্কুলে ২২৫ জন স্টাফ আছে। তাদের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ আমার ঠিকই দিতে হচ্ছে। অভিভাবকরা যদি টিউশন ফি না দেন তাহলে আমি কিভাবে এই খরচগুলো সামলাবো? এই স্কুলের খরচ বাবদ ব্যাংকে ইতোমধ্যে আমার ১৮ কোটি টাকা লোন আছে।’

টিউশন ফির জন্য শিক্ষার্থীদের কেন অনলাইন ক্লাস করতে দেওয়া হচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পপতি নাদের খান বলেন, ‘টিউশন ফি দিতে না পারলে আমি ক্লাসে শিক্ষার্থীকে কেন অনুমতি দেবো? প্রয়োজনে আমি স্কুল বন্ধ করে দেবো। তারপরও টিউশন ফি পরিশোধ না করলে অনলাইন ও রেগুলার ক্লাসে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm