বিদেশে প্রথম রেস জয়ী বাংলাদেশি অভীক আনোয়ার

0

বিদেশের মাটিতে প্রথম রেস জিতলেন বাংলাদেশের অভীক আনোয়ার। সম্প্রতি ভক্সওয়াগন এমিও কাপের প্রথম দুটি রাউন্ডে রেস জিতেছেন তিনি। দেশের বাইরে কোন বাংলাদেশীর এটিই প্রথম রেস জয়।

ব্যয়বহুল এই খেলা এখনও বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। নেই প্রশিক্ষণের সুবিধাও। তবে তিনি নিজের চেষ্টায় পেশাদার রেসার হয়ে উঠেছেন। অভীক বিবিসিকে বলেন, আমি এফ আই আর স্বীকৃত পেশাদার রেসিং ড্রাইভার। আমার শুরুটা হয় ছোটবেলা থেকেই। ১৯৯৯ সালে আমি ফর্মুলা ওয়ান দেখতাম। এখান থেকে রেসের প্রতি আগ্রহ জাগে।
বিদেশে প্রথম রেস জয়ী বাংলাদেশি অভীক আনোয়ার 1
কানাডায় পড়াশোনা করতে গিয়ে পেশাদার রেস প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, কানাডায় আমি অনেক পার্ট টাইম জব করতাম। এমনও দিন গেছে যেদিন আমি -৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পিজা ডেলিভারি দিয়েছি।

তিনি বলেন, কানাডায় টরন্টো মোটর স্পোর্টস পার্ক নামের একটা ট্র্যাক আছে। টাকা জমিয়ে আমি এখানে প্রথম প্র্যাকটিস শুরু করি। এখানে প্র্যাকটিস করতে প্রতি দুই ঘণ্টায় ২০০ ডলার লাগতো। বাংলাদেশের টাকায় আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা। নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে হতো।

তিনি আরও বলেন, এটি বেশ ব্যয়বহুল খেলা বলে চালিয়ে যাওয়া কঠিন। ভারতে অনেক রেসিং স্কুল আছে। এখানে বাংলাদেশের ৫০ হাজার টাকায় রেসিং সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। এই সার্টিফিকেট পেলেই একজন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারে। রেসিং লাইসেন্স পেতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। এই রেসিং লাইসেন্স পাওয়া পরই যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা যায়।

কানাডা থেকে ফিরে ২০১৪ সালে ঢাকায় প্রথম র‌্যালি ক্রস চ্যাম্পিয়ন হন অভীক। কিন্তু বাংলাদেশে পেশাদার রেসিং প্রতিযোগিতা না থাকায় তিনি ২০১৭ সালে ভারতের এমিও কাপে অংশ নেন।

তিনি বলেন, শুধু চ্যাম্পিয়নশিপে নিবন্ধন করতেই লাগে ১২ লাখ টাকা। এই টাকায় ১১টি রেস পাওয়া যায়। অন্যান্য খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। সবমিলিয়ে প্রতি রাউন্ডে এক থেকে সোয়া লাখ টাকা খরচ হয়। ভালো করতে চাইলে একটা টুর্নামেন্টে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকা খরচ হবে। প্রথম দুই বছর কোনও ফলাফল না পাওয়ায় আমি স্পন্সর নিছনি।

তিনি আরও বলেন, যদি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়, তবে একজন কোচ লাগবেই। প্রথম দুই বছর আমার কোনও কোচ ছিল না। ভারতের একটা টিম থেকে কোচিং নিয়ে আমি সফলতা পেয়েছি। নিজের গাড়ি ব্যবসা থেকে আয়ের টাকা দিয়ে রেসের খরচ জোগান অভীক। দেশে পেশাদার রেস ট্র্যাক না থাকায় সিম্যুলেটরে প্র্যাকটিস করেন তিনি।

তিনি বলেন, কখনো সুযোগ নিজে এসে বলে না যে আমাকে গ্রহণ করো। সুযোগ তৈরি করে নিতে হয়। যারা রেসিং ড্রাইভার হতে চান, তারা একটি দামি মোবাইল না কিনে বাসায় এন্ট্রি লেভেলের একটা সিম্যুলেটর কিনতে পারেন। এটি হচ্ছে প্রথম ধাপ। এরপর গো কার্টিং। তারপর রেস ট্র্যাকের পর চ্যাম্পিয়নশিপ।

Loading...
আরও পড়ুন