পটিয়ায় ১৭ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0

টানা বর্ষণে পটিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বেশকিছু বসতঘর ভেঙে পড়েছে। প্রায় ২০০ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এ প্লাবণের কারণে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা, ভাটিখাইন, ছনহরা, ধলঘাট, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, কুসুমপুরা, আশিয়া, কোলাগাঁও ছাড়াও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। পৌর সদরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকায় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব পানি দিয়ে সকাল থেকে চলাচল করতে দেখা যায়।

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের মৌলভী হাটের মো. ইসমাইল, মুজিবুর রহমান, আবদুল মান্নান, ইসহাক মিয়ার মাটির বসতঘর ভেঙে পড়েছে। পানিতে আটকা পড়েন মো. মোক্তার (২৬) নামের একব্যক্তি। পরে কেলিশহর এলাকার ২০-৩০জন লোক গিয়ে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন। এছাড়া পানিতে ডুবে কেলিশহরের মুজিবুর রহমানের একটি গরু বাছুর মারা গেছে।
পটিয়ায় ১৭ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি 1

এদিকে সঠিক সময়ে বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা শুরু করতে পারেনি আমন ধানের চাষাবাদ। তবে কিছু কিছু কৃষক আমন চাষাবাদের বীজ রোপণ করলেও অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টি পানি চলাচল করছে। বেড়িবাঁধের ভাটিখাইন, ছনহরা ও কচুয়াই এলাকায় কয়েকটি স্পটে ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে, টানা চারদিনের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে লোকজন যেন অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। পুকুর থেকে ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে এলাকার লোকজন যেন প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। উপজেলা ও পৌরএলাকার অনন্ত ২০০ পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের পটিয়া পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে রয়েছে। শ্রীমাই খালের ভাটিখাইন এলাকার দুইটি স্পটে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, টানা বর্ষণে পটিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনসহ ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা সংগ্রহ করার কাজ চলছে।

কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ইনজামুল হক জসিম বলেন, শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে এখন কচুয়াইয়ের পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। লোকজন আতংকের মধ্যে রয়েছে। যে কোনো মুহুর্তে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশু পাইকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা এলাকা পরির্দশন করে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।

এএইচ

Loading...
আরও পড়ুন