শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন: চার শিক্ষার্থী বহিষ্কার

0

শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তার সহযোগী শেখ রাসেল শাহেন শাহ, মো. আলী হোসেন ও ময়নুল আলমকে এক বছর মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার দিনই মাহমুদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য দুই দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং ইউএসটিসির প্রক্টর কাজী নূরে আলম আলম সিদ্দিকী।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএসটিসির প্রক্টর কাজী নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মাহমুদুল হাসানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. শেখ রাসেল শাহেন শাহ, মো. মইনুল আলম এবং মোহাম্মদ আলী হোসাইন নামে তিন ছাত্রকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ও দিয়েছে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএসটিসির প্রক্টর কাজী নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটি মাহমুদুলের ছাত্রত্ব বাতিল এবং চিরতরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাতদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। অপর তিনজনকে এক একাডেমিক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার এবং বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’

প্রক্টর নূরে আলম সিদ্দিকী আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের বাইরে পুলিশ প্রশাসন একটি পৃথক তদন্ত কমিটি করেছে, আমরা সে প্রতিবেদনটিও বিবেচনা করব। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়াও শিক্ষা কার্যক্রমে ইউএসটিসির চলমান ও ভবিষ্যত বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ২ জুলাই দুপুরে ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাসুদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করে মাথায় কেরোসিন ঢেলে দেয় একদল শিক্ষার্থী। এরপর ওই শিক্ষার্থীরাই আবার ক্যাম্পাসের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এই ঘটনার পর পুলিশ ইউএসটিসির ক্যাম্পাস থেকে মাহমুদুল হাসানকে আটক করে। রাতে ইউএসটিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া বাদি হয়ে নগরীর খুলশী থানায় শিক্ষককে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শুধুমাত্র মাহমুদুলকে আসামি করা হয়। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ৮ জুলাই ইউএসটিসির উপাচার্যের কাছে ঘটনায় চারজন জড়িত মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চার ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এসআর/এসএস

Loading...
আরও পড়ুন