প্রমাণ স্পষ্ট/ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড ওয়াটারওয়েজ

0

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য জালিয়াতি ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং লাইন্স লিমিটেড। শুল্ক পরিশোধ ছাড়া ১২টি চালান খালাসের ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও ১৬টি চালান জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তিন সদস্যের তদন্ত টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শেষ করেছে। ৩ জুলাই (বুধবার) চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার-২ কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এই ঘটনার সাথে জড়িত কারও নাম প্রকাশ করেননি। তবে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত তদন্তে জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের একাধিক সূত্র জানায়, কার্গো পণ্য জালিয়াতির ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং লাইন্স লিমিটেড। আর জালিয়াতির এই ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট শাখার অন্তত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ওয়াটারওয়েজের পক্ষে পুরো জালিয়াতির ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফারুক।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদন দেওয়ার পর এই ঘটনার সঙ্গে যদি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বরখাস্ত করা হতে পারে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে। তবে জালিয়াতির এই ঘটনায় সিভিল এভিয়েশনের কোনো কর্মকর্তা সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কার্গো পণ্য জালিয়াতির ঘটনায়। ওয়াটারওয়েজের কর্মকর্তা ফারুকের সঙ্গে মশিউর রহমানের রয়েছে বিশেষ সখ্য। এছাড়া কাস্টমসের আরও একজন রাজস্ব ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এই জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার-২ কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ১২টি পণ্য জালিয়াতির তথ্য দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরো চারটি চালানে জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে। যেসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত করা হয় তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনার বরাবারে প্রদান করা হবে।’ তবে প্রতিবেদন দেওয়ার আগে তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফটওয়্যারকে বোকা বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কার্গো পণ্য খালাসের ঘটনার কথা জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া অ্যাসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসলে তদন্ত শুরু করে কাস্টমস হাউজ। ওই তদন্তে বিমানবন্দরের কার্গো হল থেকে পণ্য ছাড় করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং লাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপরিশ করা হয়। ঘটনার অধিকতর তদেন্তের লক্ষ্যে ১২ জুন গঠিত হয় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি। ওই তদন্ত কমিটিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার-২ কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে আহ্বায়ক, অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার আমিনুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার মন্ডলকে সদস্য করা হয়েছে। তদন্তের জন্য কমিটিকে ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়।

বিদেশ থেকে প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসার সময় নিত্যব্যবহার্য পণ্য আনার ক্ষেত্রে কার্গো সুবিধা গ্রহণ করে। এতে অপেক্ষাকৃত কম শুল্কে পণ্য নিয়ে আসার সুযোগ পায় প্রবাসীরা। এসব পণ্য ছাড় করতে সিএন্ডএফ এজেন্টদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। সেই সুবিধার অপব্যবহার করে কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কার্গোর মাধ্যমে অবৈধভাবে পণ্য আমদানিতে সহায়তা দেয়।

এসসি/সিপি

Loading...
আরও পড়ুন