বিমানবন্দরে কার্গো জালিয়াতি/ বুধবার তদন্ত কমিটি হচ্ছে কাস্টম হাউজে

0

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো পণ্য জালিয়াতি করে খালাস করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। বুধবার (১২ জুন) এই কমিটি গঠিত হবে। ওই কমিটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটার ওয়েজ শিপিং এজেন্সির ৯ বিল অফ এন্ট্রির চালান এ্যসাইকুড়া সফটওয়্যার নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিয়ে রাজস্ব পরিশোধ করা ছাড়া পণ্য খালাস জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো পণ্য জালিয়াতির ঘটনায় বুধবার একটি কমিটি গঠন করা হবে। উচ্চতর পর্যায়ের ওই কমিটি খালাস হয়ে যাওয়া পণ্যগুলোর ডকুমেন্ট যাচাই বাছাই করা হবে।

তিনি বলেন, প্রথমত যে ডকুমেন্টগুলো দাখিল করেছে সেগুলো আইন এবং বিধি মোতাবেক দাখিল করা হয়েছে কী না, দ্বিতীয়ত এই ঘটনায় সিএন্ডএফ বা অন্য কেউ জড়িত আছে কী না, তৃতীয়ত কাস্টমস কর্মকর্তাদের কোন প্রকারের যোগসাজস বা সম্পৃক্ততা আছে কী না, চতুর্থত বিমান বা সিভিল এভিয়েশনের কোন দায় আছে কী না এগুলো জেনে নিবে তদন্ত কমিটি।

কাস্টম কমিশনার বলেন, এই ঘটনার সাথে কোন কাস্টমস, সিভিল এভিয়েশন, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ অন্য কেউ জড়িত থাকলে তারা অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসবে।জালিয়াতি যেহেতু ফৌজদারি অপরাধ সেহেতু এই ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই মামলা হবে। সিএন্ডএফ এজেন্ট জড়িত থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা সহ লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে জালিয়াতি করে ৯ কার্গো পণ্য খালাসের ঘটনায় দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পর নড়েচড়ে বসেছে এই ঘটনার সাথে অভিযুক্ত সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং এজেন্সি।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকে বসে ওই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মো. শামছুদ্দিনের মোবাইল নাম্বারে ফোন করা হলে ওই নাম্বার থেকে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য মো. শামছুদ্দিন আহমদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরী নামে একজনের মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়।পরবর্তীতে মনজুরুল আলম ফোন করে এই ঘটনায় শিপিং এজেন্টকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
তবে যে নয়টি বিল অফ এন্ট্রির পণ্য খালাস করা হয়েছে সেসব পণ্যের শুল্ক কাস্টম হাউজকে পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ওই ৯ টি চালানে হাউজ হোল্ড পণ্য ছিলো বলে জানান মনজুরুল।

প্রসংগত: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত বছরের ১১-২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ টি চালান রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া এ্যসাইকুড়া সফটওয়্যার নেটওয়ার্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করে নিয়ে যায় সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটার ওয়েজ লিপিং এজেন্সি। পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসলে তদন্ত শুরু করে কাস্টমস হাউজ। প্রাথমিকভাবে কাস্টমসের এয়ারপোর্ট এবং এয়ারফ্রেইট শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মশিউর রহমান তদন্ত করার পর তার প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ডেপুটি কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন চলতি বছরের গত ১২ মে কাস্টমস কমিশনার বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের কার্গো হল থেকে পণ্যছাড় করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটার ওয়েজ শিপিং লাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপরিশ করা হয়।

এসসি/এসএস

Loading...
আরও পড়ুন