বিমানবন্দরে জালিয়াতি/ সেই ওয়াটারওয়েজের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ তদন্ত প্রতিবেদনে

0

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য জাালিয়াতির ঘটনায় ফেঁসে গেল সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং এজেন্সিস লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) জালিয়াতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত টিম ২৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলমের কাছে। তদন্তকারী দল সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামছুদ্দিন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কাস্টম সরকার মো. ফারুকের বিরুদ্ধে জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। শাস্তি হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল এবং ফৌজদারি আইনে মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জালিয়াতির ঘটনায় দায়িত্বহীনতা, কর্ম অদক্ষতা, অসতর্কতার কারণে রাজস্ব কর্মকর্তা মশিউর রহমান, ফজলুর রহমান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, নুরুল মোস্তফা, করুণাময় চাকমা এবং রেডিও অপারেটর স্বপন মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে। কাস্টমসের এই ছয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার-২ কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, কার্গো পণ্য জালিয়াতির ঘটনায় ৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ মূখ্য বিষয় নয়। বিমানবন্দরের মতো এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় জালিয়াতির ঘটনাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব ও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কাস্টমসের এয়ারপোর্ট এবং এয়ারফ্রেইট শাখাকে আলাদা করা, যেখান থেকে পণ্য রিলিজ দেওয়া হয় সেই স্থানে কম্পিউটার সিস্টেমে পুনরায় চেক করে খালাস দেওয়া, ‘এ’ ফরমে সহকারী কমিশনার কিংবা ডেপুটি কমিশনারের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা, জালিয়াতি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং ইমিগ্রেশনের সঙ্গে কাস্টমসের সমন্বয় আরো সুদৃঢ় করার বিষয়ে সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

প্রতিক্রিয়া জানতে সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামছুদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ওই প্রতিষ্ঠানের কাস্টম সরকার মো. ফারুক বলেন, ‘শুল্ক পরিশোধ বা জালিয়াতির ঘটনা আমার জানা নেই। তিনি নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন।’

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য জালিয়াতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। অনিয়ম বা জালিয়াতির সাথে যে কেউ জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফটওয়্যারকে বোকা বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কার্গো পণ্য খালাসের ঘটনার কথা জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া অ্যাসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন মহলের নজরে আসলে তদন্ত শুরু করে কাস্টমস হাউজ। ওই তদন্তে বিমানবন্দরের কার্গো হল থেকে পণ্য ছাড় করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ শিপিংলাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপরিশ করা হয়।

ঘটনার অধিকতর তদেন্তের লক্ষ্যে ১২ জুন গঠিত হয় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি। ওই তদন্ত কমিটিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার-২ কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে আহ্বায়ক, অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার আমিনুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার মন্ডলকে সদস্য করা হয়।

এসসি/এসএস

Loading...
আরও পড়ুন