রেলের ইঞ্জিন স্বল্পতায় চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে ধীরগতি

0

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ট্রেনে পণ্য পরিবহনে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।রমজানের শুরুতে পণ্যবাহী ট্রেনে ইঞ্জিন বাড়ানোর কথা থাকলেও প্রায়ই ইঞ্জিন পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য। এর ফলে বারবার রেলের শিডিউল জট সৃষ্টি হচ্ছে এবং ব্যহত হচ্ছে বন্দরের পণ্য পরিবহন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে কন্টোইনার জট।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলওয়ের পণ্য পরিবহনের জন্য নির্ভর করতে হয় ইঞ্জিন প্রাপ্তির উপর।এতে বন্দর থেকে খালাস হওয়া পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পাঠাতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রেলের পণ্য পরিবহনের শিডিউল অনুসারে সকাল সাড়ে বারোটায়,বিকাল পাঁচটায়,রাত সাড়ে দশটা,সাড়ে এগারটা ও মধ্যরাত দুইটায় চট্টগ্রামের গুডস পোর্ট ইয়ার্ড থেকে পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রেন ছেড়ে যায়।এই শিডিউলের বাইরে মাঝে মাঝে সকাল দশটা এবং বিকেল তিনটার দিকে দুটি ট্রেন ছেড়ে যায়।স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাতটি ট্রেন চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড থেকে ঢাকা আইসিডি অভিমুখে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দৈনিক দুটি বা তিনটির বেশি ট্রেন পরিচালনা করতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। ইঞ্জিন সংকটের কারণে বগিতে পণ্য বোঝাইয়ের পরও ইয়ার্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রেনগুলোতে। সেই সাথে শিডিউল রক্ষা করা যাচ্ছে না কোন ট্রেনে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের প্রধান ইয়ার্ড মাস্টার আবদুল মালেক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, আগে ৫-৭টি পণ্য ও তেলবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম ইয়ার্ড থেকে ঢাকা এবং অন্যান্য গন্তব্যে ছেড়ে যেতো। এখন তার পুরোটাই নির্ভর করছে ইঞ্জিন প্রাপ্তির উপর।

রবিবার (১২ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সকাল দশটার শিডিউল ট্রেনটি ইয়ার্ড ছেড়ে গেছে দুপুর দেড়টায়। সাড়ে বারটার ট্রেনটি দুপুর তিনটা পর্যন্ত ইঞ্জিন বরাদ্দ না পাওয়ায় ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে।

একই হাল দেখা গেছে সোমবারেও (১৩ মে)।সকাল সাড়ে দশটায় একটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। ইঞ্জিন স্বল্পতায় দিনে কয়েকবার শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।রাত বারোটার দিকে আরো একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইয়ার্ড মাস্টার আবদুল মালেক বলেন,‘রোজার মধ্যে রেলে পণ্য পরিবহনের চাপ বেড়ে যায়। সেই তুলনায় ইঞ্জিনের চাহিদা বাড়লেও যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য বরাদ্দ দিতে গিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।আবার চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হলে চলন্ত পণ্যবাহী ট্রেনকে কোন স্টেশনে থামিয়ে সেই ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হয়।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘রেলে ইঞ্জিন স্বল্পতা রয়েছে। রোজা এবং ঈদে পণ্য পরিবহনে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে ইঞ্জিন বেশি সরবরাহ করতে হয়। ফলে শিডিউল অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করা যায় না। এ সমস্যা সমাধানে রেওয়ের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ইঞ্জিনের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পণ্য পরিবহনে যেসব ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে তার বেশিরভাগেরই আয়ুষ্কাল পেরিয়েছে ৪৬ বছরআগে। ১৯৫৩ সালে আমাদানিকৃত রেলের ইঞ্জিনগুলো অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পার করেছে ১৯৭৩ সালে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ইঞ্জিন দিয়ে রেল পরিচালনার ফলে পণ্য পরিবহনে কমে গেছে রেলের গতি।চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী একটি ট্রেনের সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। পথে ইঞ্জিন বিকলের ঘটনায় কখনো কখনো দুই থেকে তিনদিনও সময় লেগে যাচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পুনরায় যাত্রা করার আগে অন্তত ছয় ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হয় ইঞ্জিনকে।এক সপ্তাহ পর একদিন বিরতি দেওয়ার নিয়ম আছে।স্বল্পতার জন্য ইঞ্জিনকে ঠিকমতো বিশ্রাম দেওয়াও যাচ্ছে না। গন্তব্যে আসার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে যাত্রাপথে প্রায়শই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পণ্য পথে পড়ে থাকে কয়েকদিন।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিন পর যাত্রীর চাপ বাড়ার সাথে সাথে পণ্য পরিবহনে ইঞ্জিন বরাদ্দ আরো কমে যাবে। সেক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন শূন্যের কোটায় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টোইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। রেলের পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে এই জট আরো তীব্র হবে বলে আশংকা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন,‘তাদের (রেল) ইঞ্জিন স্বল্পতা দীর্ঘদিনের। রোজা এবং ঈদ এলে এর তীব্রতা আরো প্রকট হয়। পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন না হলে টার্মিনাল ইয়ার্ডে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়। আমদানিকারকরা চাইলে ট্রেনে পণ্য পরিবহন না করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারেন। তাহলে বন্দরে কন্টেইনার জট হতো না।’

এসএস

Loading...
আরও পড়ুন