যুবলীগ কর্মীকে বেধড়ক পিটুনির সিসিটিভি ফুটেজে তোলপাড় ফেসবুক

0

গলির ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন মহসিন নামে এক যুবলীগ কর্মী। তাকে ঘিরে ধরে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারছেন ১২-১৫ জনের একদল যুবক। একপর্যায়ে উঠে পালিয়ে যেতে চাইলেও তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে উপর্যুপরি মারতেই আছে ওই যুবকরা। এরকম বেশ কিছুক্ষণ বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে মৃত ভেবে তাকে ফেলে বীরদর্পে জনসম্মুখে স্থান ত্যাগ করেন হামলাকারী যুবকরা। প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার এই ঘটনা ঘটেছে নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনী এলাকায়।

মারধরের শিকার হয়ে বর্তমানে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মহসিন বিশ্বকলোনী এম ব্লকের বাসিন্দা। তিনি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারী। অন্যদিকে তার হামলাকারীরা অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের অনুসারী।

পুলিশ এ ঘটনার পর রোববার রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে। এরপর আকবর শাহ থানার এসআই এমদাদ বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবহৃত রডসহ সাজু (২৫) ও পারভেজ (২০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য তিনজনের বিষয়ে যাচাইবাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।

দিনের বেলায় প্রকাশ্যে রড ও লাঠি দিয়ে পেটানোর ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার আলোচনার মধ্যেই চট্টগ্রামের এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তোলপাড় চলছে। এমনকি সিএমপির শীর্ষ পর্যায় থেকেও এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে থানা পুলিশকে।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, বিশ্বকলোনী এন ব্লকে মহসিন নামে যুবলীগ কর্মী কয়েক দিন আগে জেল থেকে মুক্তি পান। জেলে যাওয়ার আগের ঘটনা নিয়ে সাজু ও পারভেজদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই রোববার বিকেলে প্রকাশ্যে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

এ ঘটনায় আকবরশাহ থানার পুলিশের এসআই এমদাদ অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করলেও ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ভিকটিম মহসীন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের করা মামলায় নয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার মোর্শেদ কচি বলেন, ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় জহুরুল আলম জসিমের নির্দেশে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তার অনুসারীরা।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম বলেন, ‘মহসিনের গ্রুপ নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আমার নাম দিচ্ছে। এ ঘটনায় আমার কোনো কর্মী সম্পৃক্ত নয়।’ তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন হামলাকারীরা কাউন্সিলর জসিমের অনুসারী।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন