চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে কলেজে যাওয়ার পথে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার নয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলায় মঞ্জুর এলাহী কাজেমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৫–এর বিচারক এস এম জিল্লুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. আকবর আলী বলেন, ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। ধর্ষণের দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি ২০১৭ সকালে নগরের চকবাজার এলাকা দিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে স্নাতক সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন তাকে দামপাড়া এলাকার একটি বাসায় আটকে রাখা হয়।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দামপাড়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নগরের চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নয় বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো।
জেজে/সিপি




