আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ২৯৭টি বাড়ি আর ৩০টি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা এক কোটি ডলার। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিদেশে গড়ে তোলা এমন বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ মোট ছয়জনের নামে থাকা ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি শেয়ারও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশে সম্পদের পাহাড় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, সাবেক এই মন্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। এর মধ্যে শুধু কম্বোডিয়াতেই রয়েছে ১১৭টি বাড়ি। এ ছাড়া দুবাইতে ৫৯টি, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টি ও থাইল্যান্ডে ২৩টি বাড়ি রয়েছে জাবেদের।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৯টি এবং ফিলিপাইনে আরও দুটি বাড়ির খোঁজ মিলেছে। ভিয়েতনামে চারটি বাড়ির পাশাপাশি রয়েছে ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট। এসব স্থাবর সম্পদ জব্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জাবেদের বিনিয়োগ করা এক কোটি ডলারও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান এসব বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং অর্থ অবরুদ্ধের আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জাবেদসহ ছয়জনের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ শেয়ার অবরুদ্ধ করার আবেদন জানালে আদালত তাতে সায় দেয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক এই মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক ও সিআইডি একাধিক মামলা দায়ের করেছে।
মূলত অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে এই বিপুল সম্পদ গড়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করে। দুদকের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, পাচারকৃত অর্থের উৎস ও গন্তব্য নিশ্চিত হওয়ার পর সম্পদগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




