৮৪ কোটির ঋণখেলাপি মামলায় এস আলমসহ ১১ জনকে ধরতে আদালতের পরোয়ানা

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের ৮৪ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদ, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীন ও ছেলে আহসানুল আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের পাঁচ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১–এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলাটি করে। ব্যাংকের আবেদনে বলা হয়, ওই ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়নি। ডিক্রি জারির পরও দায়িকদের মালিকানাধীন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঋণের টাকা আদায়ে অন্য কোনো কার্যকর উপায় না থাকায় অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩–এর ৩৪ ধারায় দায়িকদের দেওয়ানি কারাদণ্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

সাজা পরোয়ানাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গুফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদ, তার ভাই ওসমান গনি, মো. রাশেদুল আলম, আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শহিদুল আলম, ফারজানা বেগম, ফারজানা পারভীন ও আহসানুল আলম। তাঁদের সবার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ‘এস আলম হাউস’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলম মজুমদার ব্যাংকের পক্ষে আবেদন ও হলফনামা দাখিল করেন। ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট রকিবুল আনোয়ার। দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এস আলম গ্রুপ দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে গত এক দশকে ব্যাংক খাত দখল, বিপুল ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রুপটি নামে–বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ কয়েক দফায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে এসব ঋণের বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন একের পর এক মামলা করে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাইফুল আলম মাসুদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আবার ব্যাংকের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় ৬৮ জনকে আসামি করা হয়।

সিপি

ksrm