৬ হাজার বন্দির চট্টগ্রাম কারাগারে ভোটার মাত্র ৪০০, এনআইডি নেই অনেকেরই

পোস্টাল ভোট চলবে শনিবার পর্যন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বন্দিদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কারাগারের ভেতরে নিবন্ধিত বন্দিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন। তবে ছয় হাজারের বেশি বন্দি থাকলেও নিবন্ধন করেছেন মাত্র চার শতাধিক, ফলে অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, মঙ্গলবার থেকে পোস্টাল ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বন্দিরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোট দিচ্ছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের মোট বন্দি ৬ হাজার ৫৭৩ জন। এর মধ্যে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন চার শতাধিক বন্দি। অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা নিবন্ধনের সুযোগ পাননি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। বন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করেছে। ভোট শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ব্যালটপেপার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ। বন্দিদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় সম্পন্ন করা হচ্ছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টিতে বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। মোট প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ৫ হাজার ৯৬০ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ জানান, নিবন্ধিতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৪৭ জনের ভোট সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীর তালিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে তিনি জানান।

কারা সূত্র জানায়, অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা, পোস্টাল ভোটে অনাগ্রহ কিংবা জামিনের আশায় নিবন্ধন না করায় ভোটারের সংখ্যা কম। আবার কারাগারে থেকে নিবন্ধনের পর কেউ জামিন পেলে বিধিগত কারণে তিনি বাইরে থেকেও ভোট দিতে পারেন না।

দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন। এই তালিকায় কারাবন্দি ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৪০ জন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রবাসী ভোটারদের মধ্যেও অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি প্রবাসী ভোট দিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকব্যবস্থায় জমা হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

ksrm