৬ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠা শেষে চট্টগ্রামে জিম্মি তিন শিশু মাদকাসক্ত বাবার হাত থেকে উদ্ধার

প্রায় ৬ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠার পর চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় মাদকাসক্ত বাবার হাতে জিম্মি হওয়া নবজাতকসহ তিন শিশুকে ঘরের টিনের দেয়াল কেটে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ জুলাই) দিবাগত ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আকবরশাহ থানার পুলিশ এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশকে এ সময় সহযোগিতা দেয় ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম। রোববার মাঝরাতে চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানার রেলবিটের পাশে মুক্তকন্ঠ মাঠ এলাকার বস্তির এক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে মধ্যরাতে সেখানে মাদকাসক্ত এক পিতা পাঁচদিনের নবজাতকসহ তার তিন শিশুকে জিম্মি করে রাখে নিজের ঘরেই। পুলিশ ওই বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখলেও ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। কেউ ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে তিন শিশুকেই খুন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে সেখানে এসে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িও। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের একটি গাড়িও বাড়িটির পাশে তৈরি রাখা হয়।

মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে নিজের শিশুকে জিম্মি করে রাখা ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ সুমন। তার হাতে জিম্মি থাকা তিন শিশুর একটি ছিল মাত্র পাঁচদিনের নবজাতক। অন্য দুই শিশুর মধ্যে এক কন্যাশিশুর বয়স ৪ বছর, ছেলের বয়স ৭ বছর।

এ বিষয়ে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ভোরবেলায় আমরা তিন শিশুকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। পরে তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘মাদকাসক্ত পিতাকে আটকের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। আকবরশাহ এলাকায় মাদকব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত। আকবরশাহ থানার মুক্তকন্ঠ মাঠ এলাকার বস্তিতে তার বাসা। চট্টগ্রামে বসবাস করলেও সুমনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায়। তার বাবার নাম আবুল কাশেম, মায়ের নাম নয়নমনি। দুজনের কেউই বেঁচে নেই।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি প্রায় প্রতিদিনই স্ত্রীকে মারধর করেন। রোববার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকেও তিনি বেদম মারধর করে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন।

এরপরই মোহাম্মদ সুমন নিজের পাঁচ দিন বয়সী নবজাতককে একহাতে রেখে অন্য হাতে ছুরি নিয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে সুমন তার বাকি দুই শিশুসন্তানসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় তিনি ঘরের টিনের দরজাও ভেতর থেকে আটকে দেন।

এদিকে খবর পেয়ে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আকবরশাহ থানার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। তারা সুমনের ঘর চারদিক থেকে ঘেরাও করে রাখে। কিন্তু পুলিশ ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। কয়েক দফা ঢোকার চেষ্টা করলেও তিন শিশুকে হত্যার হুমকির মুখে পুলিশ পিছিয়ে আসে।

রোববার দিবাগত রাত তিনটায় আকবরশাহ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর রেজা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে সে (সুমন) ভয় দেখাচ্ছে, কেউ যদি তাকে ধরতে আসে বা ঘরের ভেতরে ঢোকে, তাহলে সে তিন শিশুকে খুন করবে।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!