আক্রান্ত
১৮৬৯৫
সুস্থ
১৫০৬২
মৃত্যু
২৯০

৬৭-তেই থেমে গেলেন সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী

0

দেশবরেণ্য গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী আর নেই। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রোববার (৯ আগস্ট) সাড়ে পাঁচটায় চিরতরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার কন্যা আলিফ আলাউদ্দিন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এই সংগীতজ্ঞকে। এরপর থেকে হাসপাতালটির ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে তাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু অবস্থার আর কোনও উন্নতি হয়নি।

আলিফ আলাউদ্দিন বলেন, ‘শনিবার ভোরে হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করা হয় বাবাকে। ভর্তির পর করোনা টেস্ট করা হয়। কিন্তু ফলাফল আজ দুপুরে নেগেটিভ পাই। এটা আমাদের জন্য স্বস্তির খবর ছিল। কিন্তু পালস পাওয়া যাচ্ছিলো না। ক্রমশ অবনতি হচ্ছিলো। চিকিৎসকরা তেমন কোনও আশা দিতে পারেনি। তবু একটা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। যেটা আগামীকাল পাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই তো চলে গেলেন। সবার কাছে আমার বাবার জন্য দোয়া চাই।’

২০১৫ সালের জুন মাসে আলাউদ্দিন আলীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি কয়েক দফায় বিদেশেও চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এরপর থেকে তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে, সংগীতে।

আলাউদ্দিন আলী বাংলাদেশের বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার। এ পর্যন্ত ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এরমধ্যে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার পুরস্কৃত হয়ে সংগীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। যে রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৭৫ সাল থেকে সংগীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’ এবং ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি।

আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসনের অভিযানে একজনের ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

কোর্ট বিল্ডিং এলাকার ফটোকপির দোকানে জাল খতিয়ানের ব্যবসা

ksrm