৫ রোগে খাচ্ছে চট্টগ্রামের প্রবাসীদের, বসা কাজে অর্ধেকেরই শরীর মোটা, ডায়াবেটিসও বেশি

গবেষণায় মিলেছে উদ্বেগজনক তথ্য

0

প্রবাসে অবস্থানরত চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের অর্ধেকেরও বেশি একদিকে ডায়াবেটিস, অন্যদিকে স্থূলতায় আক্রান্ত। তাদেরই প্রায় অর্ধেকই আবার ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। আবার চট্টগ্রামের প্রবাসী প্রায় সবারই রক্তে মিলেছে চর্বির সমস্যা।

ছুটি ও অন্যান্য উপলক্ষে চট্টগ্রামে আসা প্রবাসীদের মধ্যে যারা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন সব উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। চট্টগ্রামের এসব অধিবাসীর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতার ছাড়াও ইতালি ও মালয়েশিয়াসহ মোট ছয় দেশে বসবাসকারী প্রবাসীরা ছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় সকলেই গড়ে ১৫ বছর ধরে পরিবার থেকে দূরে প্রবাসজীবন যাপন করেছেন।

যাদের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়, বিদেশে তাদের বেশিরভাগই কায়িক পরিশ্রমের বদলে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন বিদেশের কর্মক্ষেত্রে। মূলত এই কারণে ডায়াবেটিস থেকে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ থেকে চর্বির সমস্যাসহ নানা রোগের কবলে সহজেই ধরা পড়ছেন এই প্রবাসীরা।

এই গবেষণার আওতায় থাকা প্রবাসীদের মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশই কাজ করেন দোকানে, মেকানিক আছেন সাড়ে ৭ শতাংশ। কেবল ২ শতাংশ প্রবাসী বিভিন্ন অফিসে চাকরি করেন। এর বাইরে বিদেশে আরও যেসব পেশায় এই প্রবাসীরা জড়িত, তার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব ব্যবসা, দৈনিক শ্রমিক ও গাড়ির চালনাসহ আরও নানা পেশা। এদের অনেকেই গড়ে ১১ ঘন্টা খেটেছেন ব্যবসা কিংবা কাজে।

চট্টগ্রামের প্রবাসীদের নিয়ে এই গবেষণা পরিচালিত হয় প্রায় এক বছর ধরে। আর এতে ২১ থেকে ৭১ বছর বছর বয়সী ১০০ জন প্রবাসী ও দেশে ফেরত আসা আরও ১০০ জনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১০০ জন প্রবাসী চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চিকিৎসা নেন।

এদের প্রায় অর্ধেকই সৌদি আরবে কাজ করেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারপ্রবাসীদের পাশাপাশি গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয় ইতালি ও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বেশ কয়েকজন প্রবাসীর কাছ থেকেও।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আংশিক অনুদানে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবাসীদের ৫৯ শতাংশই ভুগছেন ডায়াবেটিসে। আবার ৫৬ শতাংশ প্রবাসী স্থূলতায় আক্রান্ত। অন্যদিকে ৪৬ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও ৮১ শতাংশ প্রবাসীরই রক্তে চর্বির সমস্যা দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ প্রবাসী হৃদরোগেও আক্রান্ত। এছাড়া প্রবাসে কর্মরত চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড মিলেছে তুলনামূলক কম।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আমির হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নিছা খানম, হরমোন বিভাগের কনসালটেন্ট মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, হৃদরোগ বিভাগের কনসালটেন্ট আকতারুল ইসলাম চৌধুরী এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের মেডিসিন কনসালটেন্ট রেজাউল করিম।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm