৫ টাকায় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা চড়বে প্রধানমন্ত্রীর বাসে (সময় ও রুটসহ)

চালু হবে ২০ জানুয়ারির পর

4

আগামী সপ্তাহেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০টি দ্বিতল বাস। ১০টি বাস ২টি রুটে মর্নিং ও ইভিনিং শিফটে চলবে।

১ নং রুটের বাসগুলো বহদ্দারহাট থেকে ছেড়ে বাদুরতলা, মুরাদপুর, চকবাজার, গণি বেকারী, জামালখান, চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালী হয়ে নিউমার্কেট যাবে। একইভাবে নিউমার্কেট থেকে ছেড়ে কোতোয়ালী, আন্দরকিল্লা, জামালখান, চকবাজার, বাদুরতলা হয়ে বহদ্দারহাট যাবে। অন্যদিকে ২ নং রুটের বাসগুলো অক্সিজেন, মুরাদপুর, ২ নং গেইট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, টাইগারপাস হয়ে আগ্রাবাদ যাবে। একইভাবে আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, ওয়াসা, জিইসি মোড়, ২ নং গেইট, মুরাদপুর হয়ে অক্সিজেন যাবে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সাথে শিক্ষার্থীদের এ মতামত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাস সার্ভিস চালু, আয় ব্যয় ও রুট নির্ধারণসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধন হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাসগুলোতে যাতায়াত করতে পারবে। স্কুলের পরিচয়পত্র দেখিয়েই তারা বাসে উঠতে পারবে। যেখানেই নামুক না কেন, ভাড়া শুধু ৫ টাকা। ভাড়া পরিশোধও করতে হবে অভিনব পদ্ধতিতে। ভাড়া আদায়ের জন্য সুপারভাইজারের বদলে বাসের সামনে ও পিছনের অংশে দুটি বক্স থাকবে তালাবদ্ধ। ‘সততা বক্স’ নামের এই বক্সগুলোতে নিজের উদ্যোগেই ফেলতে হবে ওই ৫ টাকা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বাস বরাদ্দের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতল এই বাসগুলোর প্রতিটিতে ৭৩টি সিট রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুটি রুটে বাস চলাচল করলেও পরবর্তীতে চাহিদার অনুপাতে বাস ও রুট বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে কোন দূরত্বের জন্য ভাড়া হবে পাঁচ টাকা। ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সাথে একাধিকবার বৈঠকের পর ২০ জানুয়ারির পর বাস সার্ভিস চালু হতে পারে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া পাঁচ টাকা করে রুট নির্ধারণ করে ওই বাবদ সাড়ে চার লাখ টাকা আয় হলেও ব্যয় হবে সাড়ে নয় লাখ টাকা। দোতলা বাসের চালক সংকট ও পরিবহন ব্যয়ের সংস্থান নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস ঝুলে থাকে বাস চলাচলের বিষয়টি। গত ২৬ জুন বাসের রুট, রক্ষণাবেক্ষণ ভাড়াসহ নানা বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতামত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়। বাসগুলো তদারকির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, ঘাটতি পূরণের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের সাথে মাসিক পাঁচ লাখ টাকা হারে বছরে এক কোটি ২০ লাখ টাকায় ২ বছরের জন্য একটি বিজ্ঞাপনের মাসিক চুক্তি করা হয়েছে। বিআরটিসি চট্টগ্রাম ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশনস) এম জে রহমান এবং জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুলের মধ্যে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

স্কুলবাস চালু একটি সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ এবং এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, পরিবহন ব্যয়, গণপরিবহনের উপর চাপ কমে আসবে বলে সাধারণ মানুষের অভিমত। খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক আকতার বানু বলেন, বহদ্দারহাট থেকে মেয়েকে নিয়ে স্কুল এসে পুরো সময় স্কুলের সামনে বসে থাকি। স্কুল ছুটি হলে আবার মেয়েকে সাথে নিয়ে বাসায় ফিরি। রয়েছে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মহিউদ্দিন নামের আরেক অভিভাবক বলেন, হালিশহর থেকে মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করে জামালখান খাস্তগীর স্কুলে দিয়ে অফিসে যায়। আবার ছুটির সময় এসে তাকে নিয়ে বাসায় ফিরি। বাস সার্ভিস চালুর ফলে দুর্ভোগ কমে আসবে। তবে চালুর পর সঠিক তদারকি করা দরকার।

এ বিষয়ে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি বলেন, অতীতে সরকারি স্কুলগুলোতে বাস সার্ভিস ছিল। শিক্ষার্থী বাড়ার সাথে সাথে স্কুলবাস কমে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ হয়। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফভাড়া ব্যবস্থাও চালু নেই। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০টি বাস যাতায়াত সহজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। শিক্ষার্থীদের ছাত্র আন্দোলনের পরে আমরা ছাত্রদের নানা বিষয় নিয়ে সরব আছি।

ছাত্র প্রতিনিধি মিনহাজ চৌধুরী রিফাত বলেন, আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাস চালুর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। বাস সার্ভিস চালুর পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হয়ে নিরাপত্তা বাড়বে। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা মাত্র পাঁচ টাকা ভাড়ায় যেকোন দূরত্বে স্কুল বাসে চলাচল করবে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

4 মন্তব্য
  1. শরীফ বিন মাশরাফি শাওন বলেছেন

    স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো ঠিক আছে।অভিনন্দন জানাচ্ছি।

    কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করার আবেদন জানাচ্ছি।

  2. জহির চৌধুরী বলেছেন

    চার নং রুটে কখন চালুহবে?
    এই রুটে যথেষ্ট শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । রয়েছে।তাছাড়া এই রুটে সিএনজি চলেনা।
    বিবেচনার জন্য অনুরোধ রহিল।

  3. Mimi বলেছেন

    Is that for varsity students?

  4. Anik বলেছেন

    আমি মনে করি এই বাস গুলোর সাথে একটি ট্র্যাকিং সিস্টেম এড করলে ভালো হয়। মোবাইল এপ্লিকেশনের সাহায্যে বাস বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে সেটা জানতে পারবে যাত্রী, কারন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জেমের কারনে বাস সঠিক সময়ে নাও আসতে পারে। যদিও সেইক্ষেত্রে আমাদের স্কুল গামী ছোট ভাইবোন এখনো স্মার্ট মোবাইল ব্যবহার করছে না। তবে আমদের গার্ডিয়ান সেই নিদিষ্ট স্থান দেখে নিতে পারেন চাইলে। আবার হতে পারে সিকিউরিটি ম্যান্টেনের জন্য ট্র্যাকিং সবার জন্য উন্মুক্ত না… এর জন্য স্মার্ট আইডি কার্ডের মাধ্যমে রেজিস্টেশনের ব্যবস্থা করতে পারে। এবং সেই সাথে সেবার মান সম্পর্কে স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারে নাগরিক।
    আর একটি কথা এই দেশের সততা খুবিই প্রয়োজন…
    ঘাট পারের টাকা কখনোই না দিয়ে যাবেন না, আপনার সুবিধার জন্যই এতো কিছু করছে। সঠিকভাবে সবকিছুর ব্যবহার, আমাদের শেখা প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন