আক্রান্ত
১১৭৬৪
সুস্থ
১৪১৪
মৃত্যু
২১৬

৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এক পটিয়াতেই

0
high flow nasal cannula – mobile

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অতিরিক্ত বিলের চাপে সাধারণ গ্রাহকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পিডিবির গ্রাহকের গত তিন মাসের বকেয়া মূল বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় নিয়ে গ্রাহকের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মূল বিলের সঙ্গে প্রতি গ্রাহকের গড়ে ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি বিল যোগ হয়েছে। এসব বিল যথাসময়ে পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বিল সমন্বয় করার কথা বললেও পটিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত গ্রাহকদের সঙ্গে কোন কথা বলছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে পিডিবির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে ঘোষণা করা হয়েছে তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ২৫ জুনের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এই ভয়ে গ্রাহকেরা মূল বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৪ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

পিডিবির এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী বলেন, ‘আমাদের অফিসের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাসাবাড়িতে প্রায় ১৫ বছর ধরে নামমাত্র বিল দিয়ে আসছে। কার বিল কত হবে সেটা অফিস থেকে এবং দালালরা নির্ধারণ করে দেয়।’

জানা গেছে, পটিয়া-কর্ণফুলীতে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎতের প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে শুধু পিডিবির গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার। প্রতিটি গ্রাহককে অতিরিক্ত এক হাজার টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। করোনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিটার রিডিং না দেখে এবং আগের বিলগুলো যাচাই না করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা তিন মাসের বিল তৈরি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটিয়া পৌর সদরের পিডিবির অফিসে সরাসরি অভিযোগ করেও কোন সুরাহা মিলছে না। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্রাহকের চাপে পড়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কিছু কিছু গ্রাহকের বিল সমন্বয় ও কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দিলেও পিডিবি অনড়। করোনাভাইরাসের কারণে পটিয়াও লকডাউনের আওতায় ছিল। বিদ্যুতের গ্রাহকদের মূল বিলের সাথে হাজার টাকা থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার ভাটিখাইন আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছালেহ মো. শাহরিয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ঘরে পল্লী বিদ্যুতের দুটি মিটার রয়েছে। তার মধ্যে গত মার্চ মাসে একটি মিটারে ৬০৬ টাকা এবং অন্যটি ৫৫৫ টাকা বিল দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসে ১ হাজার ২৩১ টাকা এবং অন্যটি ১ হাজার ৩৫০ টাকা। মে মাসে ৩ হাজার ১৯৮ এবং অন্যটি ১ হাজার ৭১৯ টাকা। প্রতিটি বিলে মনগড়া বিল করা হয়েছে। মিটার ভাড়া ১০ টাকা হলেও গত কয়েক মাস ধরে ৪০ ও ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান উদ্দীন বশির বলেন, ‘কোন কারণ ছাড়াই আমাকে ১২ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। কি কারণে এতবেশি বিল দেওয়া হয়েছে আমি কিছুই জানি না।’

পটিয়ার হাইদগাঁওয়ের বাসিন্দা ওমর ফারুকের তিন মাসের ২ হাজার ১০০ টাকা বিলে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

পটিয়া সদরের ওখাড়া এলাকার আবু তাহের চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ঘরে মার্চ এপ্রিল-মেসহ তিন মাসে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা করে বিল আসার কথা, কিন্তু বিল দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত আমাকে ১২ হাজার টাকাই পরিশোধ করতে হয়েছে। বাড়তি বিলগুলো কি ফেরত দেবে, নাকি পরবর্তী মাসের বিলে যোগ করবে কিছুই বলছে না পিডিবি।’

পটিয়া বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি স ম ইউনুচ বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি সাধারণ গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। যেখানে করোনার কারণে বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী নিজে জরিমানা না করার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে পটিয়া পিডিবির কর্তব্যরত ব্যক্তিরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকার ভুয়া বিল করেছে। এটা নিয়ে সবাই মিলে জোরালো আন্দোলন করা দরকার।’

এ বিষয়ে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপির পক্ষে পটিয়া পিডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে হুইপ মহোদয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেটি পিডিবির পটিয়া নির্বাহী প্রকৌশলীকেও জানানো হয়েছে। তারা যাতে অতিরিক্ত বিলগুলো সংশোধনের জন্য পাঠায়। করোনার কারণে বিলগুলো নাকি সরাসরি ঢাকা থেকে করা হয়েছে। সেজন্য প্রতিটি গ্রাহককে হাজার হাজার টাকার বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে যারা পরিশোধ করেছেন তাদের আগামী বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।’

এ বিষয়ে পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘গ্রাহকদের কিছু বিল মিটার রিডিংয়ের সাথে মিল না থাকায় এটা সংশোধন করা হচ্ছে। এগুলো পরবর্তী বিলের সঙ্গে যোজন-বিয়োজন করা হবে।’

এএইচ/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm