আক্রান্ত
১৪৯৯১
সুস্থ
৩০৬১
মৃত্যু
২৪০

৫০ কিশোরের দল নিয়ে ‘অস্ত্র বাপ্পী’র পিস্তল-বুলেটের খেলা (ভিডিও)

0

নির্মাণাধীন একটি ভবনের সিঁড়ির ওপর দুই পা ছড়িয়ে বসে আছেন তিনি। পরনে জিন্স প্যান্ট ও পাঞ্জাবি। চোখেমুখে উত্তেজনা। তার দুই পায়ের মাঝে সিঁড়ির উপর রাখা আছে অত্যাধুনিক পিস্তল। আর দুই হাতে পিস্তলের ম্যাগজিন। এক এক করে সেই ম্যাগজিনে ঢোকালেন বুলেট। কিছু বুলেট ঢোকালেন পাঞ্জাবির পকেটেও। ম্যাগজিন ঢোকালেন পিস্তলের ভেতর। পিস্তলের ওপরের অংশ টান দিয়ে গুলি করার প্রস্তুতিও নিলেন তিনি। মাত্র ১৭ সেকেন্ডের একটি ঘটনা দেখে মনেই হবে পিস্তল চালানোয় বেশ পারদর্শী এই যুবক।

তবে অস্ত্র হাতে কোনো সিনেমার খলনায়কের দৃশ্য এটি নয়। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ সোহেল চৌধুরী বাপ্পীর পিস্তল নিয়ে ‘খেলা’র সত্যিকারের দৃশ্য এটি। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে এসেছে বাপ্পীর হাতে পিস্তল নিয়ে খেলার এমনই একটি ভিডিও।

বাপ্পী এসএসসির গণ্ডি পেরিয়েছেন মাত্র কিছুদিন হলো। এর মধ্যেই ৫০ জনেরও বেশি কিশোর নিয়ে গড়ে তুলেছেন ভয়ংকর এক কিশোর গ্যাং। চট্টগ্রামের চন্দনাইশজুড়েই আধিপত্য তাদের। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হুমকি, ইয়াবা সেবন ও বিক্রিতে সিদ্ধহস্ত তারা।

এই গ্যাং লিডারের নাম সোহেল চৌধুরী বাপ্পী হলেও ‘অস্ত্র বাপ্পী’ নামেই চেনে সবাই তাকে। কারণ তার অপরাধে বাধা তো দূরের কথা, সমালোচনা করলেই পিস্তল হাতে হাজির হয়ে যায় তার শিষ্যরা। কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শামসুল আলম প্রকাশ ডাবল শমসুর ছেলে এই বাপ্পী। চন্দনাইশ উপজেলার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই অল্প বয়সেই বাপ্পীর অন্ধকারজগতের নানা গল্প।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-পটিয়ার কথিত প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক মামলার আসামি ক্যান্টিন নাজিমের আশ্রয়ে অন্ধকার জগতে বেড়ে ওঠা বাপ্পীর। তাকে এই কাজে আরও সাহায্য করেন কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মুরাদাবাদ গ্রামের জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে ইকবাল ওরফে গুটি ইকবাল। যার মূল আস্তানা চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলের গেইটে। তাদের অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি অস্ত্রের মহড়ায় রীতিমতো তটস্থ এলাকাবাসী।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস থেকে শুরু করে খরনা রাস্তা, চেয়ারম্যান ঘাটা, মোজাফফরাবাদ, কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন, রৌশনহাট, বাদামতল এলাকায় এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ‘অস্ত্র বাপ্পী’। আর এই কাজে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন ক্যান্টিন নাজিম। নাজিম আবার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মফিজুর রহমানকে হত্যা চেষ্টা হামলার প্রধান আসামি।

এলাকাবাসী জানায়, কিশোর গ্যাং লিডার বাপ্পীর কিশোর গ্যাং-এর সদস্য সংখ্যা ৫০। তাদের দিয়েই এলাকাজুড়ে তান্ডব চালানো বাপ্পীর কাজ। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রি, প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে মহড়া, মোবাইল, টাকা ছিনতাই, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন গাড়ির গতিরোধ করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার অপকর্মের বিষয়ে কেউ কোন আওয়াজ করলেই গ্রুপের সদস্যরা হাজির হয়ে যায় অস্ত্র হাতে। এরপর চলে মারধর, কখনো বা পিস্তল ঠেকিয়ে দেওয়া হয় হুমকি। জানা গেছে, পাঁচ থেকে ছয়টি পিস্তল ব্যবহার করে তার গ্রুপের সদস্যরা।

প্রবাসীর জায়গা দখল, চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র ব্যবসা, মানুষকে জিম্মি করে টাকা উদ্ধারসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত এই বাপ্পী। অন্যদিকে বাপ্পীর অন্যতম সহযোগী ইকবাল গত বছর মোটরসাইকেল চুরিসহ, মাদক মামলায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়।

সম্প্রতি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এলাহাবাদ এলাকার একটি ভবনে বাপ্পীর হাতে দেখা মেলে পিস্তলের। পিস্তলটিতে বুলেটভর্তি করতে দেখা যায় তাকে। যার একটি ভিডিও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

এছাড়া বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সপ্তাহখানেক আগে তার নামে চন্দনাইশ থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন বাপ্পী। বর্তমানে তিনি রাঙামাটিতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় তার নামে রয়েছে একাধিক মামলাও।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সোহেল চৌধুরী বাপ্পীকে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

এমআইটি/এমএফও/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm