আক্রান্ত
১৫২১৬
সুস্থ
৩১৯৬
মৃত্যু
২৪৫

৫০০ পুলিশকে বিষ ছুঁইয়ে করোনার তেজ কমছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশে

0

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১২ এপ্রিল। এর ১০৫ দিন পরে ২৭ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৫০০ ছুঁইছুঁই। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৫৫ জন সিএমপি সদস্যের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে ৪৯৭ জনের শরীরে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৪টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন একজন। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানও। মারা গেছেন উপ-কমিশনার পদমর্যাদার এক কমর্কর্তাও।

তবে মে ও জুলাই মাসে উর্ধ্বমুখী হারে বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের লাগাম টানায় বেশ সফল হয়েছে সিএমপি। প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরের ১৮ দিনে আরও ১১ জন সিএমপি সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেও মে মাসের ৩০ দিনে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৩ জনে। জুন মাসে শনাক্তের পরিমাণ বাড়ে আরও বেশি। সিএমপির হিসেবে করোনার ‘পিক টাইম’ জুন মাসে মোট ১৯৭ জন সিএমপি সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। তবে জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে মে ও জুনের তুলনায়। সিএমপিতে ২৭ জুলাই পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৩৬ জন। আগের দুই মাসের তুলনায় এটিকে ‘স্বস্তিদায়ক’ বলে মনে করছেন সিএমপির কর্মকর্তারা।

এদিকে প্রতিদিন গড়ে ৫ জন করে করোনা আক্রান্ত হলেও সিএমপির করোনা আক্রান্ত সদস্যদের সুস্থ হয়ে উঠার হারও বেশ ভাল। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬৯ জন করোনাকে পরাজিত করে সেরে উঠেছেন। অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন। এর মধ্যে একজন উপ কমিশনার ও বাকি ৪ জন কনস্টেবল।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সিএমপি সদস্যরা হলেন উপ-কমিশনার (ডিবি উত্তর) মিজানুর রহমান, কনস্টেবল নইমুল হক, নেকবার হোসেন, আ ফ ম জাহেদ ও মামুন উদ্দিন।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিএমপির স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ খান। তিনি বলেন, ‘মে আর জুনে যেভাবে সিএমপিতে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছিল, জুলাইয়ে সেটা কিছুটা কম। আমাদের সেরে উঠার হারও ভাল। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো আমরা আমাদের ৫ সহকর্মীকে হারিয়েছি।’

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। যেমন কারও মধ্যে উপসর্গ দেখামাত্রই টেস্ট করানো, সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, আক্রান্তদের কন্ট্যাক্ট যারা ছিল তাদের ট্রেস করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা। তাছাড়া আমরা ব্যারাকের ভীড় কমিয়েছি এবং আলাদা আলাদা জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেছি। এর পাশাপাশি সচেতনতাও বেড়েছে। সবমিলিয়ে গত দুমাসের তুলনায় করোনার সংক্রমণ কমেছে। আমরা এটা ধরে রাখতে চাই।’

তবে দিনে গড়ে প্রায় ৫ জন করে সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও তা সিএমপির মনোবলে কোনরকম চিড় ধরাতে পারেনি জানিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘করোনায় আমাদের কাজের চাপ ও দায়িত্ব আরও বেড়েছে। আমরা নাগরিকদের সেবা দেয়ার বিষয়ে বদ্ধপরিকর ছিলাম। আমাদের প্রত্যেক সদস্য মনোবল ধরে রেখে তাদের ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করেছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের ৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।’

এআরটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm