৪ দিন পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিলাইছড়িতে, জুরাছড়ি ও বরকল এখনো বিদ্যুৎহীন

একটানা ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা। বুধবার থেকে বিলাইছড়ি উপজেলায় কিছুটা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও এখনো জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিদ্যুৎ আসে শুধু ২৫ মিনিটে জন্য। এরপর আবার চলে যায় বিদ্যুৎ। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রথমে উপজেলা সদর, পরে ধুপ্যাচর ও দীঘলছড়িতে দেয়া হয়। কিন্তু তাও কিছুক্ষন পরপর লোডশেডিং দিয়ে ঘণ্টাখানেক থাকার পর সকালে আবার বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। তবে বিলাইছড়ির এখনো কিছু এলাকা এবং জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের স্টাফরা জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানের জন্য তারা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে।

বিলাইছড়ি বাজার ব্যবসায় কল্যাণ সমিতির সভাপতি দেবাশীষ কর জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজজাত বিভিন্ন জিনিস নষ্ট হয়ে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ দ্বারা চার্জ করা মিটার থেকে শুরু করে মোবাইলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে চার্জ না থাকায় ব্যবসায়িক কাজ করা সমস্যা হচ্ছে। এবং জনজীবনে পানির সমস্যাসহ নানা ভোগান্তিতো আছে।

জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কান্তি চাকমা জানান, একটানা প্রায় ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্মই করা যাচ্ছে না এবং জনজীবনে চরম ভোগান্তিতো আছে। তারা বলেছিলো, সাব-স্টেশন তৈরি হলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। কিন্তু দেখেন আগেরমতই চলছে।

বরকল উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক নিরত বরণ চাকমা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ফ্রিজের মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন জিনিস নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসা-বানিজ্যসহ সরকারি-বেসরকারি স্বাভাবিক কাজ করা যাচ্ছে না।

Yakub Group

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী আশিক সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কাপ্তাই সাব-স্টেশনের সিনিয়র লাইন ম্যান ফাইসু মারমা বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি চন্দ্রঘোনা সাব-স্টেশনে ৩৩ কেভি লাইনের মেইন ব্রেকার নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এই তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আমার জানামতে ঢাকা থেকে আজকের মধ্যে এই মেইন ব্রেকারটা নিয়ে আসার কথা। এই জিনিসটা নিয়ে আসলে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। তবে এখনো নিয়ে এসেছে কিনা জানিনা। তবে আর ই স্যারসহ বিদ্যুৎ বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এর সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

বিলাইছড়ি সাব-স্টেশনের লাইন ম্যান শাহলম জানান, ‘যে ব্রেকারটা নষ্ট হয়ে গেছে সেটি এখনো লাগানো হয়নি। পুরাতন ব্রেকারে নতুন পার্টস লাগিয়ে কোনরকমে লোডশেডিং দিয়ে লাইনটা চালানো হচ্ছে। যার কারণে একটা থেকে বেশি লাইন দেওয়া যাচ্ছে না। বিলাইছড়ির এখনো অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলার লাইনে সমস্যা রয়েছে। যার কারণে লাইন দিলেও লাইন টিকছেনা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২টি বিদ্যুৎতের সাব-স্টেশন তৈরি করা হয়। ২৪ জানুয়ারি বিলাইছড়ি উপজেলা ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ সাব-স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। যার লাইন কাপ্তাই সাব-স্টেশন হয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা সাব-স্টেশন এবং বিলাইছড়ি থেকে জুরাছড়ি উপজেলা সাব-স্টেশন হয়ে বরকল উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm