লন্ডনের বুকে একটি দুপুর পরিণত হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে ভরা উৎসবে। সীতাকুণ্ড সমিতি ইউকে আয়োজিত পিঠা উৎসব লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির হলরুমে রোববার প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করে। দুই শতাধিক প্রবাসীর অংশগ্রহণে উৎসবটি শুধু পিঠার বৈচিত্র্য নয়, সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসাইন এবং উপদেষ্টা জুয়েল আবেদীন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন সভাপতি সাইদুর রহমান মঞ্জু। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন রাফসান হক রাফিল। সভাপতির বক্তব্যে সাইদুর রহমান মঞ্জু বলেন, পিঠা আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক এবং বিদেশে এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবি।

উৎসবে পরিবেশন করা হয় দেশীয় ৩৫–৪০ ধরনের পিঠা। দুপুরে পরিবেশন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার। দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা প্রদর্শনী, যেখানে উপদেষ্টা মিলটন রহমান পিঠার ইতিহাস ও বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ওয়ালিদ মোহাম্মদ বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি জীবন্ত রাখতে এই ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের জন্য বিশেষ উপহার প্রদান করা হয় সীতাকুণ্ড সমিতি ইউকে ও লন্ডন এন্টারপ্রাইস একাডেমির পক্ষ থেকে। পিঠা প্রস্তুতি ও পরিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা দেয়া হয়।
উৎসবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সমিতি ইউকে–এর চেয়ারপারসন নাজিম উদ্দিন, সেক্রেটারি মৌসুমী চৌধুরী জয়া ও ইফতেকার চৌধুরী, কক্সবাজার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে–এর সভাপতি ফরিদুল আলম ও সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন, ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকে–এর সদস্য সচিব শেখ নাছের, মেজবানি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, বার্কিং ও ডিগেনহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর ফিরোজ গনি এবং লন্ডন এন্টারপ্রাইস একাডেমির অপারেশন ম্যানেজার মিকদাদ। এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি নেতারাও বক্তব্য দেন।
উৎসবটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে—পিঠার স্বাদ, সংস্কৃতির আবহ ও প্রবাসীদের আন্তরিক মিলনে।




