৩ ইয়াবাকারবারির মামলা, পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম বাদ দিলেও ছাড়েনি পিবিআই

0

পিকনিকের বাসে ইয়াবা বহনের ঘটনায় বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের দাখিল করা অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।আবুল কাশেম নামে এই ব্যক্তি ঐ মামলার এজহারভুক্ত ছিল। পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে আবুল কাশেমসহ তিনজনকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা। পরে সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে আবুল কাশেমকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে পিবিআই।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনউদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন,‘আবুল কাশেম প্রকাশ শাহিন কক্সবাজারের রামু এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইয়াবার গডফাদার সে ও তার পরিবার বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হলেও তারা মূলত রোহিঙ্গা। ৪ দশক আগে কাশেমের পিতা মিয়ানমার থেকে এসে স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে বাংলাদেশি বনে যায়। এর আড়ালে সে ডাকাত দলের সদস্য হিসেবে কাজ করতো। পরে সে বাসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় যুক্ত হয়।

আবুল কাশেমকে ইয়াবার গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে কাশেম বাসের হেলপার হিসেবে চাকরি করতো। মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে বাংলাদেশে বিক্রি করতো। পরে সে ইয়াবার গডফাদারে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা সরবরাহ করতো।’

মো. মঈনউদ্দিন আরো বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি পিকনিকের বাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আটক করেছিল র্যা ব। পরে র্যা ব বাদি হয়ে ৮ জনকে এজাহারভুক্ত করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। র্যা বের দায়ের করা মামলার ৭ নম্বর আসামি আবুল কাশেম। বাকলিয়া থানা ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দুই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে কাশেম ও রাজুর নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের আদেশ দেন। পিবিআইয়ের তদন্তে আবুল কাশেম ও রাজুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যা ব-৭। কক্সবাজার থেকে পিকনিক শেষে যশোর যাচ্ছিল বাসটি। পিকনিকের আয়োজক ছিলেন আতিয়ার নামে একজন। ঘটনাস্থল থেকে আতিয়ারসহ ৬ জনকে আটক করে র্যা ব। পরে র্যা বের ডিএডি মো. শাহাদাত হোসেন বাদি হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মইন উদ্দিন এ মামলা তদন্ত করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করেন সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া।
গত ৩০ জুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজেস বড়ুয়া আতিয়ারসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে এজাহারভুক্ত আসামি আবুল কাশেম, রাজুসহ তিনজনকে বাদ দেন। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এআরটি/এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন