৩০ মিনিট ধরে একে অপরকে জাপট ধরেও পিঠ ঠেকাতে পারেনি বালিতে। এ যেন ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’। এরপর রেফারিরা বদলে দেন খেলার নিয়ম। যিনি বালিতে আংশিক পিঠ ঠেকাতে পারবেন, তিনিই হবে বিজয়ী। আর এ নিয়ম ঘোষণার এক মিনিটেই রাশেদ বলীকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মো. শরীফ ওরফে বাঘা শরীফ। এ যেন গত আসরেরই প্রতিচ্ছবি। সেবারও তারা দুজন ফাইনালে লড়েছিল, খেলাও হয়েছিল ৩১ মিনিট পর্যন্ত।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১১৭ তম আসরে ফাইনালে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেন বাঘা শরীফ। আর মো. রাশেদ টানা দ্বিতীয়বার রানারআপ হন। তারা দুজনই কুমিল্লার ময়নামতির বাসিন্দা।
এবারে বলী খেলায় অংশ নেন ১২১ জন কুস্তিগির। খেলায় তৃতীয় হন পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ মিঠু। তিনি পরাজিত করেন শাহজালালকে।
এছাড়া অপর ফাইনালিস্ট শরীফকে সেমিফাইনালে ‘ওয়াকওভার’ দেন শাহজালাল।
বিকাল সাড়ে ৩টায় বলী খেলা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
খেলা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
চট্টগ্রামে ১৯০৯ সালে প্রথম কুস্তি প্রতিযোগিতা বা মল্লযুদ্ধের প্রবর্তন করেন জমিদার আব্দুল জব্বার সওদাগর। তিনি ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী এবং একজন ধনী ব্যক্তি। মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে এই আয়োজন করা হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে এটি ‘জব্বারের বলীখেলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এভাবে কালের বিবর্তনের এই প্রতিযোগিতা শতবছর পেরিয়ে এখনও ঠিক আগের মতোই যেন উন্মাদনা ছড়িয়ে যায়।
প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গে বসে বৈশাখী মেলাও। এবার নগরীতে বসছে প্রতিযোগিতার ১১৭তম আসর। তবে এবারের আসরকে আরও স্মরণীয় করতে লালদীঘির মোড়ে বসানো হয়েছে ‘জব্বারের বলীখেলা’র ম্যুরাল।
বলী খেলা উপলক্ষে নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালী এবং সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত বসেছে বৈশাখী মেলা। মেলায় খেলনা, গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন কুঠির হস্তশিল্পের পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। তবে এবারের মেলা রোববার ভোরে শেষ হবে। এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলা একদিন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিজে




