৩০ সেকেন্ডেই সিএনজি চুরি, চক্রের ১ জন গ্রেপ্তার ডবলমুরিংয়ে

পাঁচ সদস্যের একটি চক্র। তাদের কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশার মেকানিক আবার কেউ চালক। তবে তাদের পেশা ভিন্ন হলেও সিএনজি চুরিতে তারা এক। বিশেষ চাবি দিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই একটি সিএনজি নিয়ে ভাগতে পটু এই চোরচক্রের সদস্যরা। গত তিন মাসে এভাবে ৫০ টিরও বেশি সিএনজি চুরি করেছে তারা।

এবার এই চোরচক্রের হদিস পেয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ইতোমধ্যে একজনকে আটকও করা হয়েছে।

আটক মো. বাবুল (৪৫) নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার সোনাদিয়া এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে। তবে তিনি নগরীর ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে। এর আগেও বাবুলের নামে চুরির মামলা রয়েছে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে মনসুরাবাদ এলাকা থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৬ মার্চ কোতোয়ালী এলাকা থেকে দিনদুপুরে একটি সিএনজি চুরি হয়, এমন অভিযোগ আসে থানায়। সেই চুরির তদন্ত করতে গিয়ে চোর চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।

এছাড়া গ্রেপ্তারের পর বাবুলের দেওয়া তথ্যে নগরীর চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকা থেকে চুরি হওয়া সিএনজিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

চোর চক্রের বিষয়ে আরো জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের চক্রটি প্রথমে একটি সিএনজিকে টার্গেট করে। পরে সুযোগে সিএনজিতে চালকের অনুপস্থিতিতে উঠে বিশেষ চাবি দিয়ে চেষ্টা করা হয়। এতে সফল না হলে দলের মেকানিক বিশেষ কায়দায় গাড়িটি চালু করে দ্রুত চলে যান নিরাপদ স্থানে। এই বিশেষ কাজটি করতে গ্রুপটি সময় নেয় মাত্র ৩০ সেকেন্ড।

চুরি করেই ক্ষান্ত হয়না তারা। চুরির পর টাকার বিনিময়ে সিএনজি ফিরিয়ে দেবে মর্মে চলতে থাকে মালিকের সঙ্গে দর কষাকষিও। দরে মিললে টাকা নেওয়ার পর পরিত্যক্ত অবস্থায় কোনো নির্জন স্থানে সিএনজিটি ফেলে যায়। আবার কোনো মালিক যদি টাকা দিতে না চায় তবে সেক্ষেত্রে সিএনজির যন্ত্রাংশগুলো গ্যারেজে খুচরাদরে বিক্রি করে দেয় চোরের দল। অনেকসময় ফোন করে  সিএনজিটি কর্নফুলী নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয় মালিকদের।

একইসঙ্গেঅনেক সময় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেকেন্ডহ্যান্ড হিসেবে কম দামেও বিক্রি করে প্রতারণা করে দলের সদস্যরা।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, সিএনজি অটোরিকশা চুরির মামলার তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে আসামি বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শেষে ডবলমুরিংয়ের মনসুরাবাদ এলাকা হতে বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাবুলের স্বীকারোক্তি ও তার তথ্য অনুযায়ী নগরূর বাহির সিগন্যাল বেপারীপাড়া ইসমত আলী সেরাং বাড়ির পাশে করিম সওদাগরের খালি প্লট থেকে গোলাম কিবরিয়ার চুরি হওয়ার সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।’

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!