আক্রান্ত
৩৩৫৭
সুস্থ
২৪২
মৃত্যু
৭৭

২৫ হাজার কেজি ডিম ছেড়ে হালদার মা মাছ ভাঙলো ১২ বছরের রেকর্ড

0

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীরা গত ১২ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ডিম আহরণ করেছে। ফলে হালদার দু’পাড়ে বইছে ঈদ আনন্দ।

শুক্রবার (২২ মে) সকালেই দলে দলে মা-মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। এর পরপরই ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী মাছের ডিম সংগ্রহ শুরু করে। তারা প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যা ১০-১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আহরণ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘সরকারের নানান মুখী পদক্ষেপের কারণে হালদা স্বরূপে ফিরে যাচ্ছে। গত ৪ বছর ধরে হালদায় ডিম আহরণের পরিমাণ বাড়ছে। এবার ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন। সব মিলে তারা এবার ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। যা গত ১০-১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জানা যায়, নমুনা ডিম ছাড়ার পর থেকেই হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা প্রস্তুতি নিতে থাকে ডিম আহরণের। বৃহস্পতিবার রাতে মা মাছ ফের নমুনা ডিম ছাড়লে নদীর দুপাড়ে শুরু হয় অপেক্ষা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৮০ নৌকা দিয়ে সংগ্রহ শুরু হয় ডিম আহরণ। হালদা নদীর গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে হালদা পাড়ের ৬১৫ ডিম সংগ্রহকারী একটানা কয়েক ঘন্টা ডিম আহরণ করেন। একেক জন ডিম সংগ্রহকারী ৩০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত ডিম আহরণ করে। সব মিলিয়ে এবার হালদা থেকে আহরণ করা ডিম পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি। যা গত ১২ বছরে রেকর্ড সর্বোচ্চ ডিম আহরণ।

হালদার গত কয়েক বছরের ডিম সংগ্রহের পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১৯ সালে ৭ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। এরআগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ কেজি (নমুনা ডিম) কেজি ওই বছর পুরো মাত্রায় ডিম ছাড়েনি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০১৪ সালে ৫০০ কেজি, ২০১৩ সালে ৬২৪ কেজি এবং ১২ সালে ১ হাজার ৬০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

হালদার ডিম সংগ্রহকারী অংকুরিঘোনার সিরাজ উদ্দিন বলেন, এবার প্রচুর ডিম সংগ্রহ হয়েছে। আমি প্রায় ৫০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছি। হালদাকে পুরনো রূপে ফিরে পেয়ে আমাদের খুশির সীমা নেই।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘হালদাকে আগের রূপে ফেরাতে গত এক বছরে ১০৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ড্রেজার, ঘেরা জাল, বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা পাইপ ও নৌকা। সবার সম্বিলিত প্রচেষ্টায় হালদা পুরনো রূপ ফিরে পাচ্ছে।’

তিনি জানান, ডিম ছাড়ার পর মা-মাছগুলো খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় যাতে কেউ মাছশিকার করতে না পারে সে লক্ষ্যে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা কার্প জাতীয় মাছের ডিম দিয়ে এক সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছ চাষিদের পোনার চাহিদা পূরণ করতো হালদা নদী। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে দুষণ ও আগ্রাসনের কবলে পড়ে ঐতিহ্য হারাতে বসে হালদা।

এসএ/সিএম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm