২৩ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরানো হলো ১৫০ মেট্রিক টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল

নারায়ণগঞ্জে ধ্বংস করা হবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে

চট্টগ্রাম বন্দরের একটি শেডে ২০০৩ সাল থেকে পড়ে ছিল ৯ কন্টেইনার ক্ষয়কারী ও দাহ্য পদার্থ। এসব কেমিক্যালের পরিমাণ ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন। এবার এসব পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিপজ্জনক কেমিক্যালবাহী গাড়িগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এর মধ্যে রয়েছে—সালফিউরিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন), নাইট্রিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (৫০০ কেজি), মিথানল ৫ কনটেইনার (৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন) এবং থিনার ২ কনটেইনার (৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন)।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুড়াপাড়ার ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।

বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন বিশেষ এ ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।

আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। বাজারে পণ্যের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কা, মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকি, ছাড়পত্র না মেলা, মামলাসহ নানা কারণে অনেক চালান খালাস হয় না। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বন্দরে পড়ে থাকে।

কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে বা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় এসব পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার ফেরত পায় শিপিং এজেন্ট।

এটি/ডিজে

ksrm