১৬০ টাকায় শুরু জামান হোটেলের আজ শত কোটির ব্যবসা

নেপথ্যে রাউজানের মোহাম্মদ জামান

0

বাড়ি থেকে মাত্র ১৬০ টাকা নিয়ে শহরে এসেছিলেন মোহাম্মদ জামান। এ সামান্য পুঁজি নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর মাঝিরঘাটে শুরু করেন মুদির দোকানের ব্যবসা। শুরুটা ১৯৬৪ সালের দিকে। তখনকার সেই ১৬০ টাকার মুদির দোকান থেকে আজকের হোটেল জামানের বিশাল নেটওয়ার্ক।

মুদির দোকানের ব্যবসা শুরুর দুই বছর পর নগরীর স্টেশন রোডে মরিচ, চাল, গম গুড়া করার কলঘর দেন মোহাম্মদ জামান। এরপর ১৯৭৮ সালে থেকে আলকরণ রোডের মাথায় জিপিও অফিসের বিপরীতে যাত্রা শুরু করেন হোটেল জামানের। তখন বড় ভাই মালেকুজ্জামান ও ছোট ভাই নুরুজ্জামানের সমন্বয়ে ওই দোকানটি চালাতেন তিনি।

মো. জামানের ছোট ভাই নুরুজ্জামান বলেন, ‘বড় ভাই মালেকুজ্জামান ও মেজ ভাই মো. জামান মিলে জিপিও অফিসের সামনের হোটেল জামানটি শুরু করেছিলাম। পরে ১৯৮৮ সালের দিকে মেজ ভাই মো. জামান পৃথক হয়ে যান। পৃথক হয়ে তিনি হোটেল জামানকে দেশব্যাপী পরিচিত করে তোলেন। তিনি হোটেল জামানের শাখা বৃদ্ধি করেন। দেশের অনেকগুলো শাখা সৃষ্টির পেছনে আমার ভাই জামানের অবদান রয়েছে। তিনি ছোটকাল থেকে ব্যবসায়ী মনোভাবের ছিলেন।’

দুই ভাইয়ের সঙ্গে মোহাম্মদ জামান।
দুই ভাইয়ের সঙ্গে মোহাম্মদ জামান।

জানা গেছে, পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম ও গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের ২০টি শাখা গড়ে ওঠে। মো. জামানের অবদানে ৯০ দশকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠে জামানের বেশ কয়েকটি শাখা। ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হোটেল জামানের সুনাম। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে হোটেল জামান। হোটেল জামানের সাথে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে বলা যায়। একসময় চট্টগ্রামের মানসম্পন্ন হোটেল বলতে চিনতেন হোটেল জামান। সেই থেকে এখন পর্যন্ত গুণে-মানে সুনামের সাথে চলছে হোটেল জামানের ব্যবসা।

চট্টগ্রামে মেজবান আয়োজনের ঐতিহ্য শত বছরের। ঐতিহ্যবাহী মেজবান এখন দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে আসছে। মেজবান বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যবাহী একটি অনুষ্ঠান। চট্টগ্রামের ভাষায় একে মেজ্জান বলা হয়। জামান হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসের বিশেষ আকর্ষণ বিশেষ বাবুর্চির রান্না করা ঐতিহ্যবাহী মেজবানির মাংস। হোটেল জামানের মেজবানিকে এখন দেশের অন্যান্য হোটেলগুলোও অনুকরণ করছে।

নগরের নিউমার্কেট, মুরাদপুর, কোর্ট বিল্ডিং, চকবাজার, বায়েজিদ, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, অক্সিজেন মোড়, বালুছড়া, কক্সবাজারে হোটেল জামান পরিচালনায় ছিলেন মোহাম্মদ জামান। নগরীর অন্যান্য শাখাগুলোর পরিচালনায় রয়েছেন মো. জামানের বড় ভাই ও ছোট ভাই।

জানতে চাইলে জামানের বড় ছেলে কায়সার জামান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সামান্য পুঁজি নিয়ে এ শহরে এসেছিলেন আমার বাবা। সেই থেকে আজকের ঐতিহ্যবাহী হোটেল জামান। সুস্বাদু ও আধুনিক মানসম্পন্ন হোটেল ব্যবসার পথিকৃৎ ছিলেন বাবা।’

পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদ জামান
পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদ জামান

তিনি বলেন, হোটেলের প্রত্যেকটি পণ্যে বাজার থেকে ক্রয় থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত খেয়াল রাখতেন বাবা। রান্নার পরে পরিবেশন করার আগে তিনি প্রথম খেয়ে দেখতেন প্রত্যেকটি আইটেম। এভাবেই বাবা আমাদের হোটেল ব্যবসা শিখিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোটেল জামান অ্যান্ড বিরানী হাউসের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্ত্বাধিকারী আর নেই। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর আল ফালাহ গলিস্থ নিজ বাসভবনে মোহাম্মদ জামান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ে এবং নাতি নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। মোহাম্মদ জামানের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা এলাকায়।

এসএ/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন