১৩ দিনের বাঁচা-মরার লড়াই শেষে মৃত্যুর কাছে হারলো চট্টগ্রামের স্কুল ছাত্র

1

৩০ নভেম্বর, বিকেল ৩টা। প্রতিদিনের মত নিজেদের পাড়ার মাঠে খেলতে যায় কিশোর অনিক। খেলায় জেতার পণ করেছিলো অনিক সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে। কিন্তু নিয়তি তাকে হারিয়ে দিলো পুরো জীবন-খেলায়।

মাঠে হারজিত নিয়ে ঝগড়ার জেরে দুই সহপাঠী তার মাথায় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলো। এতেই ১৩ দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ফিরতে হয়েছে কফিনে চড়ে, লাশ হয়ে।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, মাথায় ভারী আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আনা হয় গত ৩০ নভেম্বর। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালেফ আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।

নিহত অনিক বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ইজ্জতনগর গ্রামের রুদ্রপাড়ার প্রণব রুদ্রের ছেলে। অনিক বাঁশখালীর কালীপুর এজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় অনিকের পরিবার তার সহপাঠী প্রান্ত রুদ্র (১৭) ও হৃদয় রুদ্রকে (১৭) দায়ী করেছে।

নিহত অনিকের চাচা সুজিত রুদ্র চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‌’ঘটনার দিন বিকেলে তার দুই সহপাঠী প্রান্ত রুদ্র ও হৃদয় রুদ্রকে তাকে মাথায় আঘাত করে ব্যাট দিয়ে। পরে সন্ধ্যায় সে বাসায় এসে নাস্তা করার পর প্রচন্ড বমি করে অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় পরপর দুইটি অস্ত্রোপচার করতে হয়। আইসিইউ’র দরকার হলে তাকে চমেক থেকে বেসরকারী একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই হাসপাতালে ১০ দিনে অনেক টাকা বিল আসে। তাই বাধ্য হয়ে তাকে আবার চমেকে নিয়ে আসতে হয়। এখানে আনার তিনদিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়।’

এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিএস/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. চন্দন রুদ্র বলেছেন

    অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm