হিমালয়ের শকুন পথ ভুলে খাগড়াছড়িতে, খাবারের অভাবে উড়তেই পারছে না

1

হিমালয়ের আনাচে কানাচে দেখা যায় তাদের। সেই হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুনের দেখা মিলল খাগড়াছড়ি শহরের খবংপড়িয়া এলাকার রাস্তায়। আরও একটি পাওয়া গেল সদরের চারমাইল এলাকায়। দুই এলাকা থেকে শকুন দুটো উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি বন বিভাগ।

খাগড়াছড়ি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, এই প্রজাতিটির নাম হিমালয়ান গ্রিফন ভালচার শকুন। উড়তে উড়তে পথ ভুলে বা অসুস্থতার কারণে পাহাড়ের মাটিতে দেখা গেছে মহাবিপন্ন শকুন।

বন বিভাগের কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এক কক্ষে খাবার মাছ-মাংস ও ওরস্যালাইনসহ চিকিৎসা চলছে শকুনগুলোর। দুটো শকুনের মধ্যে একটিকে মাটিতে শান্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

হিমালয়ের শকুন পথ ভুলে খাগড়াছড়িতে, খাবারের অভাবে উড়তেই পারছে না 1

খাগড়াছড়ি শহরের খবংপড়িয়া বাসিন্দা রিনা চাকমা বলেন, শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল নয়টার দিকে বাসা থেকে রাস্তায় আসলে দেখি রাস্তার পাশে একটি শকুন পড়ে আছে। বনবিভাগকে খবর দিলে তারা এসে পাখিটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরকম শকুন কোনোদিন দেখিনি। দূরদুরান্ত থেকে এটা দেখতে আসছেন পাখিপ্রেমীরা।

সুভাশীষ চাকমা বলেন, সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে খবংপড়িয়ার বিহারের এক রুমে শকুনটিকে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে বনবিভাগের লোক এসে নিয়ে যায়।

খাগড়াছড়ি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুরাম চাকমা বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর খবংপড়িয়া ও চারমাইল এলাকা থেকে দুটি হিমালয়ান গ্রিফন ভালচার শকুন উদ্ধার করি আমরা। এরা সচরাচর শীতকালীন মৌসুমে চলে আসে। সময় হলে আবার হিমালয়ে চলে যায়। আমাদের পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায় না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ডলাইফের সাথে যোগাযোগ করেছি। পাখি দুটির চিকিৎসা চলছে। কিছুটা দুর্বল মন হচ্ছে। দুই একদিনের মধ্যে সুস্থ হলে নিয়ে যাবে।

পাখি ও বন্যপ্রাণী গবেষক শরীফ খান বলেন, গ্রিফন প্রজাতির এই শকুন আমাদের দেশে নেই। এরা শীতের পরিযায়ী পাখি। হিমালয় অঞ্চল থেকে আসে। শীতে আসে তারা খাবার এবং আশ্রয়ের জন্য। বাংলাদেশে এসে খাবার পায় না এবং ওই দেশে ফিরে যেতে পারে না। শরীরের শক্তি হারিয়ে যায়। যখন খাবার পায় না, তখন দুর্বল হয়ে তখন গাছে বসলে মাটিতে পড়ে যায়।

শরীফ খান জানান, বাংলাদেশে শকুন নেই। না থাকার কারণ হচ্ছে খাবারের অভাব। অল্প কিছু দেখা যায় সিলেটের সীমান্ত এলাকায়। আগে গরু ছাগল মরলে মানুষ খোলা জায়গায় ফেলে রাখত। শত শত শকুন আসত। এখন স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা ভেবে জন্য গরু-ছাগল মারা গেলে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সিলেট বর্ডার এলাকায় দেশি শকুন আছে। সেখানে বনবিভাগ সপ্তাহে একটি অথবা দুটি গরু কেটে ফেলে রাখে তাদের খাবার হিসেবে। তবে বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে দু একটি স্থানেই শুধু এই ব্যবস্থা রয়েছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. রাশেদ এয়াকুব বলেছেন

    যমুনার চরে এই সেদিনও দেশি শকুনের ঝাঁক দেখেছি মরা গরুর মাংস খেতে।দেশে নেই বললেই হয়ে গেল? পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর অঞ্চলে এখনো আছে তবে আগের মত নেই কারণ বাসা তৈরিরমত উঁচু গাছ নেই আর খাবারও কমে গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm