হাসপাতালের ৮৫০ কোটি আত্মসাতের মামলায় ডা. রবিউলের ছেলে কারাগারে

চারজনের পাসপোর্ট জব্দ

চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার আড়ালে জালিয়াতি, ভুয়া বিল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলায় পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. রবিউল হোসেনের ছেলে রিয়াজ হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ১ম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় অবৈধভাবে দখলে রাখা একটি ফ্ল্যাট থেকে রিয়াজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পুলিশ রিয়াজ হোসেনকে আদালতে হাজির করলে তার পক্ষে জামিনের আবেদন জানানো হয়। এ সময় বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক মামলার ভয়াবহতা, অপরাধের প্রকৃতি এবং জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আমলে নিয়ে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এই অবস্থায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ২য় আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছিল।

এই মামলার গুরুত্ব ও আসামিদের দেশত্যাগের আশঙ্কা বিবেচনা করে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনছুর মামলার প্রধান চার আসামির পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন। এই চার আসামি হলেন প্রফেসর ডা. রবিউল হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ডা. কাজী মোহাম্মদ অহিদুল আলম। এর আগে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশকে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন যে, এটি একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধ এবং এখানে রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালী আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষী প্রভাবিত করা ও তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার মাধ্যমে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারেন বলে তারা দাবি করেন।

আদালতে বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী, মানবাধিকার আইনজীবী এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান এবং এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আরমান।

ksrm