আক্রান্ত
৯৮৮৮
সুস্থ
১১৯৫
মৃত্যু
১৮৯

হাটহাজারীতে করোনা রোগী শনাক্ত হল যেসব এলাকায়

মোট আক্রান্ত ১২৩, রোববারই ৩৪ জন

0
high flow nasal cannula – mobile

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত ২৭ এপ্রিল একজন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল করোনার প্রাদুর্ভাব। একজন দিয়ে শুরু হওয়া এই আক্রান্তের সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় ব্যাংক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবারের সদস্যসহ সর্বোচ্চ ৩৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোববার (৩১ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন।

তিনি বলেন, গত ২৬ মে পর্যন্ত দু একদিন পরপর এক-দুই জন করেই বাড়ছিল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু ২৭ মে একদিনেই আক্রান্ত হন ৮ জন। পরদিন আক্রান্ত সংখ্যা এক লাফেই উঠে যায় আশংকাজনক অবস্থানে। ২৮ মে একদিনেই আক্রান্ত হন ২৬ জন। এরপর দুই দিনের ব্যবধানে ৩০ মে এই উপজেলায় একদিনে আক্রান্ত হন ৩৪ জন। এর মধ্যে রয়েছে ৮ নারী, ২ শিশু ও ২৪ জন পুরুষ। যা চট্টগ্রামের কোনো উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এটিই সর্বোচ্চ। এছাড়া ৩ নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রাপ্ত নমুনার ফলাফলে হাটহাজারীতে রোববার (৩১ মে) একদিনে নতুন করে ৩৪ জন করোনা শনাক্ত হন। এরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের ৩৮ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের ৩৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), হাটহাজারী পৌরসভার কামালপাড়া ৩৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), ফতেপুর ইউনিয়নে ৫৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম মেখল ফকিরহাট ৩৭ বছর ও ৬৫ বছর বয়সী ২ জন (পুরুষ), ছিপাতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), আমানবাজার ৫০ বছর ও ২২ বছর বয়সী ২ জন (পুরুষ), হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ সদস্য ৩৫ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), লালখানবাজার ৪৮ বছর বয়সী ১ জন (নারী), হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ৫৫ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ বছর বয়সী ১ জন (কন্যা শিশু), আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ বছর বয়সী ১ জন (কন্যা শিশু), আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ৪৮ বছর বয়সী ১ জন (নারী), আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ১৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), আলীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ৪০ বছর বয়সী ১ জন (নারী), হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড এম আলম গ্যাস পাম্প ২২ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), হাটহাজারী শাখা সোনালী ব্যাংক ৫৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), সোনালী ব্যাংক ৫৮ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), সোনালী ব্যাংক ৩০ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), সোনালী ব্যাংক ২১ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), বুড়িশ্চর ইউনিয়নের নজুমিয়া হাট বাতুয়া ৫১ বছর ও ৪৭ বছর বয়সী ২ জন (পুরুষ), নজুমিয়াহাট বানিয়া পুকুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৬ বছর বয়সী ১ জন (পুরুষ), নজুমিয়াহাট বানিয়া পুকুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড ২১ বছর বয়সী ১ জন (নারী), হাটহাজারী পৌরসভার আলমপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯ বছর ও ৬২ বছর বয়সী ২ জন (পুরুষ), চিকনদন্ডী খন্দকিয়া ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬ বছর বয়সী ১ জন (নারী), দেওয়ান নগর শায়েস্তা খাঁপাড়ার ৩৫ বছর বয়সী ১জন (নারী), মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১জন (পুরুষ), হাটহাজারী থানার ট্র্যাফিক পুলিশ ১ জন (পুরুষ), হাটাহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন (নারী) এবং হাটহাজারী পৌরসভার দেওয়ান নগর ৪৫ বছর বয়সী ১ জন (নারী)।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত এক চিকিৎসক জানান, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারী এখন করোনার হটস্পটে পরিণত হয়ে উঠেছে। দুইদিনের ব্যবধানে সর্বশেষ প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে ও উপসর্গ ছাড়া অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদ পূর্ববর্তী কেনাকাটা ও অসচেতনতার কারণে হাটহাজারী করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে হাটহাজারী মানুষের সমাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তাহনিয়া সাবেরা চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সর্বমোট ৫৪৭ নমুনা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৫১৮ জনের নমুনার ফলাফল আমরা পেয়েছি। প্রাপ্ত ফলাফলেও মধ্যে ১২৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার শতকরা হার প্রায় ২২.৩৯ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা রয়েছে ১১৬। এছাড়া উপজেলার বাইরে সিটি কর্পোরেশন ও অন্য উপজেলার রয়েছে ৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১০ জন।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, শুরু থেকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা বিরামবিহীনভাবে কাজ করে গেছি। মানুষ সচেতনতা, সামাজিকদূরত্ব মানার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সাথে রীতিমতো লুকোচুরি খেলেছেন। অনেকে নানা অজুহাতে নিয়ম মানেনি। ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে দোকানের সামনে দরজা বন্ধ রেখে পেছনের দরজা দিয়ে বেচাকেনা করেছেন। আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসার পরে দেখেছি তারা আবারও দোকান খুলেছেন।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম না মানা ও অসচেতনতার কারণে আজ হাটহাজারী করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে প্রতিটি সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে।

হাটহাজারীতে দ্রুত করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাস সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ার সময় যেটাকে ‘হাইটাইম’ বলা যায়। এছাড়া চট্টগ্রামে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক দূরত্ব কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। সে কারণে সংক্রমণের হার বাড়ছে।

এখন হাটহাজারী উপজেলায় ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারসহ সব জায়গায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এক জেলা বা উপজেলা থেকে অন্যত্র বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে এ প্রবণতা বেশি হওয়ায় এবং যাতায়াত ও সামাজিক মেলামেশার ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে অনেক বেশি হারে।

এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm