হাইকোর্ট কর্তৃক অবৈধ ও বাতিল ঘোষিত চট্টগ্রাম ওয়াসার জাতীয়তাবাদী নামধারী শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭)-এর নেতাকর্মীরা নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুভেচ্ছা জানাতে ওয়াসা ভবনে জড়ো হওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার (১ জুন) চট্টগ্রাম ওয়াসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে এ ঘটনাকে ঘিরে ওয়াসার নতুন ভবনে হট্টগোল দেখা দেয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. জানে আলম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে অবৈধ ও বাতিল ঘোষিত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ওয়াসার নতুন ভবনে জড়ো হতে থাকেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনটির কথিত নেতা আবু জাফর, মহিউদ্দিন মানিক, মো. মিয়া এবং ড্রাইভার শাহজাহান।
এদিকে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭ অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। অবকাশকালীন ছুটি শেষে ১৯ এপ্রিল বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে রায়ের কপি মামলার বাদীদের হাতে পৌঁছে।
মামলার বাদী ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৮৭) তৎকালীন সভাপতি রতন কান্তি দাশ সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (মামলা নম্বর ৬১০৯/২০০৪) দায়ের করেন। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
পরে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্ট সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি ও শোকজ দেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭ অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৭৯(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে একসঙ্গে তিনটির বেশি ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন দেওয়া যায় না। চট্টগ্রাম ওয়াসায় সংগঠনটি ছিল চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন, যা আইনগত সীমা অতিক্রম করেছিল। এ কারণেই রেজিস্ট্রেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৮৭) ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি শুরু থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০০৪ সালে এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত হয়।
এর আগে ২০০৪ ও ২০০৫ সালেও হাইকোর্ট সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করে দুই দফা রুল জারি করেছিলেন।
তালা ভেঙে ওয়াসার কক্ষ দখল
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ৭২ ঘন্টার মাথায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ভেতরে তালা ভেঙে কক্ষ দখল করে আলোচনায় আসে জাতীয়তাবাদী নামধারী কথিত শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭) নেতারা। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিয়ে নিজেদের সংগঠনের কার্যালয় দাবি করে কক্ষের গ্লাসঘেরা অংশে তার ছবিসহ বড় স্টিকার টাঙানো হয় ওই সময়। ২৩০৭ নম্বরের চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়ন আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর সংগঠনটি নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দল’ নাম নেয়। এর কথিত সভাপতি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মী নতুন ভবনের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ওয়াসা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, আগের এমডির সময়ে মামুনুর রশিদ ও সাবেক কার্যকরী সভাপতি কামাল খানসহ কয়েকজন কর্মচারী মিটার ইন্সপেক্টর পদে থেকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন।




