হাইকোর্টের আদেশে থামলো চট্টগ্রাম চেম্বারের ভোটযুদ্ধ, নতুন তফসিল ছাড়াই ভোটে তৎপর ছিল এক পক্ষ

ভোটের মাত্র দুই দিন আগে আবারও থমকে গেল চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বহুল আলোচিত নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগামী ছয় মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে আগামী শনিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের সব প্রস্তুতি অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সমমনা পরিষদ’-এর দুই পরিচালক প্রার্থী এসএম নুরুল হক ও আজিজুল হক এই রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী আশফাকুর রহমান।

এডভোকেট আশফাকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনের তফসিল নিয়ে ট্রেড অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালকের নিষ্ক্রিয়তা এবং এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিটে গত ১৮ মে জারি করা নির্বাচন বোর্ডের স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন বোর্ডের ১৮ মে জারি করা স্মারকের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন আদালত।

রিটকারীদের দাবি, গত ২২ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড নতুন তফসিল ঘোষণা না করে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় এই রিট আবেদন করা হয়।

আগামী শনিবার (২৩ মে) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন বোর্ড ইতিমধ্যে ভোট আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। তবে ভোটের দুই দিন আগে আদালতের আদেশে নির্বাচন আবারও স্থগিত হলো।

‘সমমনা পরিষদ’ শুরু থেকেই এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড সেই দাবি আমলে না নিয়ে গত ১৮ মে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে। ঈদের ছুটির দুই দিন আগে ২৩ মে ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত বছরের ১১ আগস্ট চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও ভোটের দুই দিন আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। পরে দ্বিতীয় দফায় গত ৪ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আপিল বিভাগের নির্দেশে সেটিও স্থগিত হয়ে যায়। এবার তৃতীয় দফায় নির্বাচন স্থগিত হলো।

গত ২২ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়। ওই বিধিমালা অনুযায়ী চেম্বারের সদস্যদের সরাসরি ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি ও পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে পৃথকভাবে আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সমমনা পরিষদ’-এর দুই পরিচালক প্রার্থী এস এম নুরুল হক, মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং চেম্বারের সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

তবে নির্বাচন বোর্ড গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ প্যানেলও পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেয়।

এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর একটি সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’। এই প্যানেলের উপদেষ্টা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। অন্য প্যানেলটি চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা পরিষদ’।

চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের ভোটে ১২ জন সাধারণ শ্রেণীতে এবং ৬ জন সহযোগী শ্রেণীতে পরিচালক নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে তিনজন এবং ট্রেড গ্রুপ শ্রেণী থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হন সভাপতি ও দুইজন সহসভাপতি। এবার বিতর্কিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের মোট ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

সিপি

ksrm