হাঁটু পানিতেই ক্লাস চলে কৈখাইন স্কুলে

0

স্কুলে যাওয়ার রাস্তা আগেই ঢেকে গেছে পানিতে। স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীরা দেখে বেঞ্চ ছুঁই ছুঁই পানি। অবাক হয়নি তারা। কারণ প্রায়ই এমনটি ঘটে। ওই অবস্থাতেই তারা বসে গেল পরীক্ষা দিতে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নে ভরা জোয়ারের কারণে কৈখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বিঘ্নিত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। জোয়ারের পানির মধ্যে ক্লাস ও হাঁটু পানিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

কয়েকদিন ধরে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে চরম দুর্ভোগে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও জোয়ারের পানির মধ্যে ক্লাস চলায় সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থীর অভিভাবক। জোয়ারের সময় স্কুলের আঙ্গিনায় পানি উঠে যায়। এমনকি স্কুলের নিচতলার শ্রেণীকক্ষগুলোতেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহনাজ আকতার মিতু বলেন, গত কয়েকদিন ধরে খুব বেশি জোয়ারের পানি এসেছিল। তখন আমাদের পরীক্ষা চলছিল। জোয়ার আসলে স্কুলে তো যাওয়াই যায় না। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও পানিতে ডুবে যায়।

অভিভাবকরা জানায়, সন্তানদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ জোয়ারের পানিতে থাকে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু, তারমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত। অন্যদিকে সাপের ভয়, ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় নাথ জানায়, কয়েকদিন ধরে স্কুল কক্ষে হাঁটু পরিমাণ জোয়ারের পানিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে আমাদের। বিশেষ করে ভরা জোয়ারে আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। তবে ওই সময়ে অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চান না অনেকেই। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে আমাদের ও শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তিনি আরও জানায়, বিদ্যালয়ে জোয়ারের পানি ঢোকার বিষয়টি আমরা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‌‘কয়েকদিন ধরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়ে পানি ঢুকছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন