আক্রান্ত
১৮৬৯৫
সুস্থ
১৫০৬২
মৃত্যু
২৯০

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রমে আসবে পরিবর্তন

যা আছে গাইডলাইনে

2

সরকারি ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হলে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও একইসঙ্গে চলবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমও— এমন সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

তবে সরকার ইতিমধ্যে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, করোনাভাইরাস নির্মূল হতে সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তা চলবে। শিক্ষা কার্যক্রমের ধরনে পরিবর্তন আনা হবে। অতীতের মতো স্বাভাবিক নিয়মে আর চলবে না শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে সবচেয়ে বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বর্তমান ব্যবস্থায় ক্লাসে যেমন পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা আছে, নতুন নিয়মে সেটা বদলে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। ক্লাসের মাঝখানে প্রচলিত নিয়মে বিরতির ব্যবস্থাও আর না থাকতে পারে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হবে সামাজিক দূরত্ব মেনে। শিফটিং ও রেশনিং করে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।

তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, করোনাভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ন্যূনতম জায়গাও নেই। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে শারীরিক দূরত্ব মেনে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

যা আছে গাইডলাইনে
গত ২ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় এবং খোলার পরে কী করতে হবে, ওই গাইডলাইনে তা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এখন এই গাইডলাইন মেনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে এই গাইডলাইনে বলা হয়েছে—

১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে মহামারী প্রতিরোধক মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করে জরুরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করুন। প্রতিটি ইউনিটের জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক ও শিক্ষাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করুন।

২. শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ জোরদার করুন। সকাল ও দুপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ‘প্রতিদিনের প্রতিবেদন’ এবং ‘শূন্য প্রতিবেদন’ পদ্ধতি প্রবর্তন করুন।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত শিক্ষাদানকর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা নিন। যাদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে, তাদের প্রবেশ নিষেধ করুন।

৪. শ্রেণি কক্ষ, খেলার মাঠ এবং পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা শক্তিশালী করুন। দিনে ২-৩ বার প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মতা উন্মুক্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের স্বাভাবিক মাত্রা নিশ্চিত করুন। বিশুদ্ধ বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করুন এবং ফিরতি বায়ু চলাচল বন্ধ করুন।

৫. শ্রেণি কক্ষ, সর্বসাধারণ কর্তৃক ব্যবহৃত হয়, এমন জায়গাসহ অন্যান্য জায়গার মেঝে ও ঘরের দরজার হাতল, সিঁড়ির হাতল এবং যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয়, সেসব বস্তুর তল পৃষ্ঠ ঘন ঘন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।

৬. খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন এবং প্রতিবার পরিবেশনের পরে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) জীবাণুমুক্ত করুন।

৭. দূরে দূরে বসে খাবার গ্রহণ করুন এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব থালাবাসন বা ওয়ানটাইম থালা বাসন ব্যবহার করুন।

৮. প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চত্বরের আবর্জনা পরিষ্কার এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করুন।

৯. অফিস কার্যালয়ে কাগজের সীমিত ব্যবহারকে উৎসাহিত করুন। শিক্ষাদানকর্মীদের পারস্পরিক শারীরিক যোগাযোগ কমান এবং দূরবর্তী বা অনলাইন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।

১০. স্বাভাবিক অবস্থা না আসা পর্যন্ত কোনও প্রকার অভ্যন্তরীণ জমায়েত বা ক্রিয়াকলাপের আয়োজন করবেন না। যেকোনও বদ্ধ বা ঘন জনবহুল স্থান বা অন্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক মিটারের কম বা সমান দূরত্ব বজায় রাখুন।

১১. শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী এবং শিক্ষার্থীদের বহির্গমন কমিয়ে দিন।

১২. শিক্ষাদান কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ব্যবহার করুন। হাত ধোয়াসহ অন্য সব স্বাস্থ্যবিধি শক্তিশালী করুন। দ্রুত হাত শুকানো জীবাণুনাশক বা জীবাণুনাশক টিস্যু ব্যবহার করুন। হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ এবং নাক ঢাকতে টিস্যু বা কনুই ব্যবহার করুন।

১৩. মহামারী প্রতিরোধকে জোরদার করুন। শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের সময় নিয়ন্ত্রণ করুন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করুন।

১৪. শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন কোনও কেস থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানান এবং যারা এই কেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও কোয়ারেন্টাইন করুন।

১৫. কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী বা শিক্ষার্থীদের পিতামাতার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার জন্য একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়োগ করুন।

১৬. কোনও নিশ্চিত কোভিড-১৯ কেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন। মূল্যায়ন না হওয়া হওয়া পর্যন্ত এটির পুনরায় ব্যবহার শুরু করা থেকে বিরত থাকুন।

১৭. একত্রে বসে খাওয়ার মতো ডাইনিং পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
2 মন্তব্য
  1. Mahbubur Rahman বলেছেন

    আমাদের দেশ অযোগ্য নীতি নির্ধারকে ভরে গেছে, এটা কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ।
    এক বছর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে দেশের এমন কোন ক্ষতি হবেনা।
    দেশে এমনিতেই বেকারের ছড়াছড়ি, তাই নতুন বেকার সৃষ্টি না করলেও চলবে।

  2. মোদাস্সের বলেছেন

    ৯৯% স্কুলেই এতসব মানার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নাই

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm